সিরাতুল মুস্তাকিম চাই, সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন, তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি আল্লাহের গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে **** দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়েগেছে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম নাসা আর বাআবিস(বাংলাদেশ আকাশ বিজ্ঞান সংস্থা)প্রধানের সাক্ষাতকার এই চমৎকার পৃথিবীটা ধ্বংস হয়ে যাবে আর তাকে উপলক্ষ করে চারিদিকে এক উৎসব উৎসব আমেজ বিরাজ করবে তার ধারনাই আমার ছিলনা। ২১ডিসেম্বর,২০১২ কে উপলক্ষ করে সারা বছর যেন ছিল এক অঘোষিত উৎসব, ব্লগে,পত্রিকায়,সিনেমায়,ম্যাগাজিনে এর প্রচারনার ছিলনা কোন শেষ, তবে কাল বাদে পরশু উৎসব পালন কারিরা কি করবে কে জানে???? নাকি আবার নুতন কোন তারিখ নিয়া লাফালাফি শুরু করবে!!! আসলে এই অঘটিত ঘটনা নিয়ে লাফা-লাফির একটাই কারন আর তা হল দুনিয়া জুড়ে আজ হয়ত বেশীর ভাগ মানুষই আসুখি। সবাই হয়ত কোন না কোন ভাবে অসুখি, আর তা না হলে কি নিজেদের ধবংস নিয়ে এই রকমের উৎসব উৎসব আমেজের সৃষ্টি হবার কথা???? যাই হোক আমি একসাথে নাসা প্রধান আর বাআবিস(বাংলাদেশ আকাশ বিজ্ঞান সংস্থা)প্রধানের সাক্ষাতকার নিয়ে নিলাম। প্রশ্ন একঃ ২০১২তে পৃথিবী কি পৃথিবীর প্রতি কোন হুমকি আসবে নাকি? অনেক ওয়েব সাইট বলছে পৃথিবী ২০১২ এর ডিসেম্বরে ধবংস হয়ে যাবে? নাসার উত্তরঃ ২০১২তে পৃথিবী ধবংস হবে না। এই গ্রহটি ৪ বিলিয়ন বছর ধরে খুব সুন্দর ভাবেই চলছে এবং দুনিয়া জোড়া বিশ্বস্ত বিজ্ঞানীরা ২০১২ এর সাথে সম্পর্কিত আছে এমন কোন প্রলয়ের হুমকির সম্ভাবনা খুজে পাননি। বাআবিসঃ দেখেন ভাই আমি পিওর ফিজিক্স এর লোক না, আমি এপলাইড ফিজিক্স এর লোক, জিবনে এস্ট্রনমি পড়ি নাই, শখেও না, মন্ত্রী আমার এলাকার এম,পি বইলা আমারে বাআবিস এর প্রধান বানাইসে। তাই আমাকে এই সকল প্রশ্ন করবেন না!!!!!! প্রশ্ন দুইঃ ২০১২ তে যে পৃথিবী ধবংস হয়ে যাবে এই অনুমানটার ভিত্তিটা কি? নাসার উত্তরঃ সুমেরিয়ানদের আবিষ্কার করা গ্রহ নিবিরু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে, এই কল্পনা থেকেই এই গল্পের শুরু। ২০০৩ এর মে মাসে এটি পৃথিবী ধবংসের কারন হবে বলে প্রথমে অনুমান করা হয়, তারপর ঐ সময়ে কিছুই না হওয়াতে, মায়ানদের বর্ষ পঞ্জিকার সাথে মিল করে এই মহাপ্রলয়ের দিনের তারিখ ঠিক করা হয়, ২০১২ সালের ডিসেম্বর ২১ তারিখ। বাআবিসঃ যত সব পাগল ছাগোল আর কি!! আমার পোলাডার নাম নিবির, হে ক্যান পৃথিবী ধবংসের কারন হইব, আজবতো??!! আর আমি হরতালে কখন আমার গাড়িটা ধবংস হয় এই টেনসানে বাচিনা আপনে আইসেন পৃথিবীর ধবংস লোয়া ফাইজলামি আরকি??? প্রশ্ন তিনঃ ২০১২ তে কি মায়ানদের বর্ষ পঞ্জিকার শেষ? নাসার উত্তরঃ ঠিক যেমন আপনার বাড়ির দেয়ালে ঝুলে থাকা পঞ্জিকা গুলো ৩১শে ডিসেম্বর শেষ হয়ে যায় কিন্তু থেমে যায় না বরং জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে আবার শুরু হয়, তেমনি মায়ানদের এই দির্ঘ সময়ের পঞ্জিকার শেষ হয়ত ২১ ডিসেম্বর ২০১২, কিন্তু তা চিরকালের জন্য থেমে না গিয়ে বরং আবার একটা নুতন তারিখ দিয়ে শুরু হবে। বাআবিসঃ নুতন জেনারেসানে সকলেরই দেশপ্রেমের অভাব আর কি, খালি মায়ান পঞ্জিকা আর মায়ান পঞ্জিকা, বাংলা পঞ্জিকার কথা মনে থাকে না?? মায়ানগো পঞ্জিকা ডিসেম্বরে শেষতো কি হইসে, আমাগো চৈত্র মাস আইতেতো সামনের এপ্রিল মাস পর্যন্ত টাইম আছে। যত সব ফালতু পোলাপাইন। প্রশ্ন চারঃ নাসা নাকি ২৩ থেকে ২৫ ডিসেম্বর সারাটা সময় ব্ল্যাক আউটের কথা বলছে? নাসার উত্তরঃ একেবারেই না, হতেই পারেনা, না নাসা না অন্য কোন বৈজ্ঞানীক সংস্থা কেউই এরকম কোন কিছু সতর্কতা দেয়নি। ঐ সময়ে মাহাবিশ্বের কোন এক প্রকারের সরল রৈখিক অবস্থানের যে সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে তা একেবারেই ভিত্তিহীন। বাআবিসঃ যত আজে বাজে চিন্তা, আমার এলাকায় তো প্রতি মাসেই ২-৩ দিনের ব্ল্যাক আউট আর প্রতি দিন ৪-৫ ঘন্টার ব্ল্যাক আউট হয়, এই নিয়া চিন্তার কি আছে? প্রশ্ন পাঁচঃ গ্রহগুলো কি এমন ভাবে সরল রৈখিক অবস্থানে আসতে পারে যাতে পৃথিবীর ক্ষতি হয়? নাসার উত্তরঃ গ্রহগুলোর সরল রৈখিক অবস্থানের সম্ভাবনা আগামী কয়েক দশকেও নাই, আর যদি তা হয়ও তাহলেও তার প্রভাব পৃথিবীর উপর খুবই সামান্য। ১৯৬২ সালে এ রকমের একটি বড় ঘটনা ঘটেছিল, এর পর ১৯৮২ আর ২০০০ সালেও হয়েছিল, কৈ পৃথিবীরতো কিছুই হয় নাই!! আর প্রতি ডিসেম্বরেই পৃথিবী সূর্য আর আমাদের এই ছায়াপথের কেন্দ্র এক সরল রেখায় আসে, এটা একটা নয়মিত বার্ষিক ঘটনা মাত্র। বাআবিসঃ আদার ব্যাপারির জাহাজের খবর আর কি?? বিশ্ববিদ্যালয় আর স্কুলের ব্যাঞ্চ গুলাতে এত ফুটা যে জিবনে সরল রেখা ঠিক মত আঁকতে পারি নাই, আর তুমি আমারে প্রশ্ন করতাসো গ্রহের সরল রৈখিক অবস্থান নিয়া। যাওতো যাও শান্তিতে থাকতে দাও। প্রশ্ন ছয়ঃ এমন কোন গ্রহ বা নিবিরু বা বাদামি বামন বা এক্স গ্রহ বা এরিস নামক কিছু আছে কি যা ক্রমাগত পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে, যা পৃথিবীতে বিরাট কোন ধবংস যজ্ঞের কারন হবে? নাসার উত্তরঃ নিবিরু বা অন্য গল্প গুলো ইন্টারনেটে প্রচারিত অপলাপ ব্যাতিত কিছু নয়। এগুলোর কোন সত্য ভিত্তি নাই। এক্স গ্রহ বা নিবিরুর যদি সত্যিই ২০১২তে পৃথিবীকে আঘাত করার সম্ভাবনা থাকত তাহলে হয়ত আরো ১০ বছর আগে থেকে বিজ্ঞানীরা এর অনুসরন করতে থাকত, আর অনেক আগে থেকেই তা হয়ত খালি চোখেই দেখা যেত, অবশ্যই এর কোন অস্তিত্ত নাই। তবে হ্যা এরিস এর ব্যাপারটা সত্যি, এটি একটি বামন গ্রহ, এটি প্লুটোর মত বহির সৌরজগৎ এই থেকে যাবে, আর খুব বেশী হলে তা পৃথিবীর ৪ বিলিয়ন মাইলের মধ্যে আসতে পারে। এর বেশী নয়। বাআবিসঃ দেখ নিবির হইল আমার পোলা আর এরিস হইল হারকিউলিসের ভাই, বাকি গুলারে আমি চিনি না, শেষ বয়সে আইসা আমার বিয়াটারে খাইবা নিকি??? কিয়ের মধ্যে কি, পান্তা ভাতে ঘি??!!! প্রশ্ন সাতঃ মেরু পালটে যাবার সূত্রটা কি? একদিনে বা কয়েক ঘন্টায় পৃথিবীর চুম্বক ক্ষেতের ১৮০ ডিগ্রী ঘূর্ণন কি সম্ভব ? নাসার উত্তরঃ পৃথিবীর উলটা ঘুরতে শুরু করাটা প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার। হ্যা এটা ঠিক যে এন্টারটিকা একসময় বিষুবিয় অঞ্চলে ছিল কিন্তু এটা একেবারেই ভিন্ন একটা বিষয়। এটার সাথে মেরু পরিবর্তন সূত্রের সম্পর্ক নাই। এই কথা গুলো মানুষকে শুধু বোকা বানানোর জন্যই করা হয়েছে। তবে হা চুম্বকিয় মেরুর পরিবর্তন হয়, তবে তা হতে গড়ে ৪০০,০০০ বছর লাগে। কিন্তু আমরা যত দূর জানি এতে পৃথিবীর কোন ক্ষতি হয় না। আর আগামী দশ লক্ষ বছরে এই ঘটনা ঘটার কোন সম্ভাবনা নাই। বাআবিসঃ ঐ মেরুর কথা জানিনা , তবে আমার মেরু পরিবর্তনের সময় কাছায়া আইসে, আর এ জন্যই এলাকার বি এন পির মোকলেস ভাইয়ের সাথে সপ্তায় একদিন কইরা ফোনে যোগাযোগ রাখতাসি। প্রশ্ন আটঃ ২০১২তে কি কোন গ্রহানু আঘাত করবে পৃথিবীকে? নাসার উত্তরঃ এটা পৃথিবীতে সব সময়ই হয়। কিন্তু বড় আঘত হয় খুবই কম। শেষ বড় আঘতটা ছিল ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে, যার ফলে ডাইনোসাররা বিলুপ্ত হয়েছিল বলে ধারনা করা হয়। নিকট ভবিষতে এই রূপ কোন সম্ভাবনা নাই। বাআবিসঃ যত সব আচিন্তা কুচিন্তা, জামাততো ঠিকি ট্রাইবুনালে আঘাত কইরা ফালাইসে হেই চিন্তা নাই??? আবুল সাব ঠিকি পদ্মাসেতুতে আঘাত কইরা ফালাইসে হেই চিন্তা নাই?????? প্রশ্ন নয়ঃ নাসার বিজ্ঞানীরা ২০১২সালে পৃথিবী ধবংস হয়ে যাবে এই দাবিটাকে কি ভাবে দেখছেন? নাসার উত্তরঃ এই দাবির পিছনে বিজ্ঞানের যুক্তি কৈ? প্রমান কৈ? বৈজ্ঞানীক কল্পকাহিনির ভিত্তিতে বইলিখে, ইটারনেটে প্রচার করে চলচিত্র বানিয়ে বাস্তবতাকে পরিবর্তন করা যায় না। ২০১২তে কোন প্রকার অসংলগ্ন বিপর্যয় ঘটবে বলে প্রমান এখন আমরা পাইনি। বাআবিসঃ কি কইতেছেন এই সব, ২০১৩তে বড় মাইয়াটারে বিয়া দিমু ঠিক করছি, তার পর পাপ ধুইতে হজ্জে যামু ২০১৪তে , বাড়া ভাতে ছাই দিবেন নিকি???? প্রশ্ন দশঃ ২০১২তে সৌর জড়ের কারনে কোন বিপর্যয়ের সম্ভাবনা আছে কি? নাসার উত্তরঃ সৌর ঘটনা গুলো একটা চক্রাকার নিয়ম মেনে চলে, এবং এই চক্র প্রায় ১১ বছরের। ১১ বছর পর পর এমন একটা সময় আসে যখন সূর্যের ফুল্কি গুলো বৃদ্ধি পায়, এই সময় কৃত্তিম উপগ্রহ ভিত্তিক যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ দিয়ে চলে এমন যন্তপাতির ক্ষতির একটা সভাবনা থেকে যায়। কিন্তু ২০১২তে এরো কোন সম্ভাবনা নাই। সূর্যের এই চক্রাকার অঘটন ২০১২-২০১৪ এই সময়ের কোন এক সময় হয়ত আসবে। সাধারনত এই অনুমান ভুল হয় না। বাআবিসঃ সিডর আর আইলার ইম্প্যাক্টই এখন শেষ হয় নাই, আর সৌর ঝড়, যত সব কুচিন্তা, গেলি এইখান থেকা। কখন থেকা কইতাসি নিবির আমার পোলার নাম, ঐ এক্কেরে ভালো পোলা, যা ভাগ এইখান থেকা, আর আমার এই সাক্ষাতকার যদি ছাপবি তাইলে নান্দাইলের ইউনুসরে(নৌ মন্ত্রীরে) দিয়া তোর চোখ উঠায়া দিমু। বাআবিস বলতে বাংলাদেশে কিছু নাই, তাই এই অংশটা মিথ্যা। আর নাসার অংশটা সত্য কেউ আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে (এই ঠিকানায় ) যান। স্বপ্ন আমার এক সময় বাআবিস(বাংলাদেশ আকাশ বিজ্ঞান সংস্থা) নামে কিছু থাকবে। আর তার প্রধানের দিকে সারা পৃথিবী তাকিয়ে থাকবে। মহাপ্রলয় নিয়া কেন সবাই এত ব্যাস্ত বুঝিনা। আর ইসলামে বিশ্বাসীদের তো এই ব্যাপার নিয়া ব্যাস্ত হবার কোন কারনই নাই। কারন ইসলাম অনুসারে, একটা ব্যাপারে সকল মানুষ সমান জ্ঞানী, আর তা হল মাহাপ্রলয়ের দিনের ক্ষন। ঠিক কখন মহাপ্রলয় হবে এক আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, জানবেও না। তবে মাঝে মাঝে অবশ্যই মনে হয় যে ঐ দিন বেশী দূরে নাই যে দিন, কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মনে রাখবেন: এই ব্লগের কোনও সদস্যই কোনও মন্তব্য পোস্ট করতে পারে৷