এখানে ক্লিক করুন আর দেখুন জাদু

বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০১৫

ভিডিও ক্লিপ টি দেখুন তরুন প্রজন্ম ধবংষের দিকে

তরুন প্রজন্ম

আইজ্যাক আসিমভের রোবটিক্সের তিন সূত্র


যারা সাইন্স ফ্রিকশন এবং বিজ্ঞানিক কল্প কাহিণী পড়তে ভালো বাসেন তাদের কাছে রোবট এবং এলিয়েন খুব পরিচীত শব্দ।সেই সাথে আইজ্যাক আসিমভের নাম শুনেন নি এমন পাঠক খুব কমই আছেন ।১৯৩৯ সালে  তিনি যেন এনে দিয়েছিলেন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিণীতে এক নতুন মাত্রা তিনি রোবটকে উপস্থাপন করলেন মানব সম্প্রদায়ের উপকারী এক সহানুভূতিশীল যন্ত্র হিসাবে যা মানুসের সব কাজকে আরো সহজ আর দ্রুতশীল করতে সাহাজ্য করছে। এর আগে বৈজ্ঞানিক কল্প-কাহিনীর জগতে ১৯২০ আর ১৯৩০ দশক সময়ের গল্পগুলোর অনেকগুলোই ছিল রোবটদের ব্যাপারে সাবধানবানী। কিভাবে তারা একসময় গিয়ে তাদের নির্মাতা মানুষের বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়িয়ে তাদের ধ্বংস করে দেয়।
আইজ্যাক আসিমভ সে সময়ে ভাবতে থাকেন রোবটতো মাত্র একটা যন্ত্রই আর মানুস নিত্য নিয়ত নানা রকম যন্ত্র তৈরি করে চলেছে আর সব যন্ত্রইতো কোন না কোন রকম ভাবে মানুসের জন্য বিপদ জনক । তাহলে এমন কি করা যেতে পারে যাতে করে এই রোবটকে নিরাপদে ব্যাবহার করা যেতে পারে ।
এই অনুভব থেকে ১৯৪১ সালে আইজ্যাক আসিমভ তার  একটি গল্পে রোবট  প্রোগ্রামের জন্য তিনটি সূত্র বা রক্ষা কবচ প্রস্তাবনা করেন যা রোবট যখন নির্মাণ করা হবে তখন রোবটের মস্তিস্কের প্রোগ্রামে সেট করে দেওয়া হবে। এই সূত্রগুলো রোবোটিক্সের তিনটি সূত্র হিসাবে পরিচীত।
রোবটিক্সের তিন সূত্রঃ
১. একটি রোবট কখনো একজন মানুষকে আঘাত করবে না কিংবা কোনো মানুষ বিপদে পড়লে নির্লিপ্ত হয়ে চেয়ে চেয়ে দেখবে না।
২. একটি রোবট অতি অবশ্যই একজন মানুষের দেয়া আদেশ মেনে চলবে যতক্ষণ না পর্যন্ত সেই আদেশ প্রথম সূত্রের পরিপন্থী হবে।
৩. একটি রোবট নিজের অস্তিত্বকে সবসময় টিকিয়ে রাখার জন্য সচেষ্ট হবে যতক্ষণ না পর্যন্ত তা প্রথম দুই সূত্রের পরিপন্থী হবে।

কল্পবিজ্ঞানের বইয়ে আমরা প্রায়ই দেখি রোবট মানবসভ্যতাকে ধ্বংস করে বিশ্বে রোবটের রাজত্ব কায়েম করছে। এই তিনটা নীতি মেনে রোবট বানালে সেই আশঙ্কা অমূলক।

সুর্যের ৪০০০ ছবি

সুর্যের ৪০০০ ছবি সংবলিত  ভিডিও। 

বুধবার, ২১ জানুয়ারি, ২০১৫

স্যার আইনস্টাইন কি সত্যিই টাইম মেশিন বানানোর ফরমুলা দিয়েছিলেন?

আমরা জানি সময় কারও জন্য থেমে থাকে না। অতীত বর্তমান হয়ে সময় চলেছে ভবিষ্যতের দিকে যেন একমুখী প্রবাহ। নিউটন তার বিখ্যাত গ্রন্থ প্রিন্সিপিয়াতে গতিসুত্রের প্রেক্ষাপটে সময় সম্পর্কে একটা কথা লিখলেন, “Absolute, true and mathematical time of itself and from its own nature, flows equally with relation to everything external.” [চরম প্রকৃত এক গানিতিক সময় তার অন্তর্নিহিত ধর্মানুযায়ী বাহ্যিক অন্য সব কিছুর প্রস্তাব মুক্ত হয়ে সমমানে বয়ে চলে]। যদিও তখনকার যুগে প্রায় সকলেই এই সূত্র মেনে নিয়েছিলেন কিন্তু কথাটা যে সব সময় সত্য তা কিন্তু না।  আমরা যেমন সময়ের জন্য থামতে পারি তেমনি সময়ও আমাদের জন্য থামতে পারে অর্থাৎ আপেক্ষিক। কিন্তু ঘটনাটা ঘটবে একটি বিশেষ শর্ত-এ, বা বলতে গেলে একটি বিশেষ নির্দেশ তন্ত্রে। নির্দেশতন্ত্র হল এমন একটা স্থান বা জায়গা যেখান থেকে আমরা কোনো বস্তুর অবস্থা, অবস্থান, প্রকৃতি ইত্যাদি পরিমাপ করতে পারি। এককথায় সেই পরিমাপক স্থানকেই পদার্থবিদ্যার ভাষায় নির্দেশেতন্ত্র বলে। যেমন একটি ট্রেন চলছে, ট্রেনের ভেতর একটা ছেলে বল নিয়ে লোফালুফি করছে। ট্রেন চলতে শুরু করল। ট্রেনটি একসময় ধরা যাক a cm/s¬ সমবেগ নিয়ে যেতে শুরু করল। এখন যে যাত্রী ট্রেনের ভেতর ছিল সে দেখবে যে বলটি গতি সরলরৈখিক। কিন্তু ট্রেনের বাইরের দর্শকের সাপেক্ষে বলটির গতি কিরূপ হতে পারে। হিসেব করলে দেখা যাবে গতিপথটি হবে উপবৃত্তাকার বা অর্ধবৃত্তাকার বা অধিবৃত্তাকার। নিচের চিত্রটি দেখুন -
সুতরাং এই উপরোক্ত পরীক্ষা থেকে দেখা গেল যে ভিন্ন ভিন্ন পর্যবেক্ষণ স্থান বা নির্দেশতন্ত্র থেকে পরিমাপক বিষয় ভিন্ন ভিন্ন মান যুক্ত হয়।

আমরা সাধারণ জীবনে কোনো গতিশীল বস্তুকে পরিমাপ করি সাধারণ পদার্থবিদ্যার নিয়ম অনুসারে। এর একটা পরীক্ষার সাহায্যে বলি। রাম ও শ্যাম দুই বন্ধু রাস্তায় হেঁটে চলেছে। রাম নিজে ৬ কিমি/ঘঃ সমবেগে ও শ্যাম নিজে ৪ কিমি/ঘঃ সমবেগে পরস্পরের দিকে হেঁটে চলেছে। তাহলে রাম শ্যামকে কি ৪ কিমি/ঘঃ বেগে চলতে দেখবে? মোটেই না। রাম দেখবে যে শ্যাম (৬ + ৪) =  ১০ কিমি/ঘঃ বেগে যাচ্ছে ও শ্যামও রামকে ১০ কিমি/ঘঃ বেগে যেতে দেখবে। আবার রাম আর শ্যাম উভয়ই একই দিকে চলতে শুরু করলে রামের সাপেক্ষে শ্যামের ও শ্যামের সাপেক্ষে রামের বেগ হবে (৬ – ৪) = ২ কিমি/ঘঃ। এ

ই ধরনের ঘটনা আমরা সাধারণ জীবনে পর্যবেক্ষণ করে থাকি।

কিন্তু আলোর ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা অন্যরকম। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ম্যাক্সওয়েল তরঙ্গতত্ত্ব আবিষ্কার করেন যা পরবর্তীকালে নানা পরীক্ষার সাহায্যে প্রমাণিত হয়। কিছুকাল পরে বিজ্ঞানী হার্তজ আলোর বেগের মান নির্ণয় করলেন যার মান ৩ x ১০৮ মি/সেঃ। কিন্তু এর থেকে আমাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে এই বেগ কার সাপেক্ষে? ১৮৮৭ সালে মাইকেলসন ও মর্লি নামে দুই বিজ্ঞানী পরস্পর দুটি সমকোণি আলোকরশ্মির গতিবেগের তুলনা করেন। তাছাড়া তারা সূর্যের চারিদিকে সারা বছরে পৃথিবীর বিভিন্ন অবস্থানে সূর্য থেকে আসা আলোর বেগ নির্ণয় করে দেখেন তাতে আলোর গতিবেগের কোনো পার্থক্য নেই। এই পরীক্ষা থেকে ১৮৯৩ সালে জর্জ ফিটজেরাল্ড ও হেন্ড্রিক লরেন্জ ধারনা দেন যে কোনো বস্তুপিণ্ড ইথার নামক মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে চলার সময় তাদের ক্ষেত্রে তাদের সময় ও দৈর্ঘ্য সংকুচিত হয়ে তাদের সাপেক্ষে আলোর বেগ একই রাখে। আসলে আমরা যেমন জানি শব্দতরঙ্গ জড়মাধ্যমে চলাচল করে তেমনি তখন বিজ্ঞানীরা মনে করতেন আলো তথা সকল তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গই ইথার নামক মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে চলাচল করে। এর পরবর্তীকালে এলেন মহাবিজ্ঞানী আইনস্টাইন, যিনি তার স্পেশাল থিওরী অফ রিলেটিভিটির দ্বারা সারা পৃথিবীর মানুষকে হেলিয়ে দিলেন। ১৯০৫ সালে তিনি তার গবেষণাপত্রে দেখালেন যে ইথার নামক কোনো মাধ্যম নেই এবং সকল বস্তুর [তা গতিশীল হোক বা স্থির] সাপেক্ষে আলোর বেগের মান হবে অভিন্ন। এই বেগ পর্যবেক্ষকের গতি নিরপেক্ষ ও গতির দিক নিরপেক্ষ।

আইনস্টাইনের স্পেশাল থিয়োরি অফ রিলেটিভিটি [আমি যাকে বলি টাইম মেশিনের থিওরী] বোঝার জন্য নির্দেশতন্ত্রের জ্ঞান থাকা জরুরী। আইনস্টাইনের জেনেরাল থিওরী অফ রিলেটিভিটি বলে আলো ভর যুক্ত বস্তুর প্রভাবে বেঁকে যায়। কিন্তু আমি তো টাইম মেশিনের সম্বন্ধে লিখতে যাচ্ছিলাম হঠাৎ করে এসকল জিনিস নিয়ে আলোচনা করলাম কি জন্যে। করলাম এই জন্যে যে স্পেশাল থিয়োরি অফ রিলেটিভিটি এর মূল তত্ত্বই হল টাইম মেশিনের গল্প।

কিন্তু এসব বলার আগে বলে নেওয়া দরকার সময় পরিভ্রমনের সাধারণত ২ টি দিক আছে। একটি হল অতীত এবং অন্যটি ভবিষ্যত। অতীতে ভ্রমণ করার কয়েকটি সুবিধা, যেমন আপনি অতীতে গিয়ে আপনার অসম্পূর্ণ কাজ গুলি করে আসতে পারবেন অনেকটা এরকম ধরুন মাধ্যমিকে আপনার রেজাল্ট ভালো হয়নি কিন্তু যেহেতু আপনার অতীতের সেই প্রশ্নগুলির উত্তর জানা আছে তাই আপনি অনায়াসেই সেগুলি অতীতে গিয়ে সমাধান করতে পারবেন। তাছাড়া আপনার জন্মের আগে যেসকল ঘটনা ঘটে গেছে তার প্রত্যক্ষ দর্শন করতে পারবেন। যেমন বলা যায় আইনস্টাইনের দেখা সাক্ষাৎ করে আসলেন। এসব শুনতে খুবই ভালো লাগে, কিন্তু একথা নিশ্চয়ই শুনেছেন যে যেখানে সুবিধা সেখানে অসুবিধা থাকবেই। কিন্তু আপনি কি কখনও এটা ভেবে দেখেছেন যে যদি কেউ অতীতে গিয়ে আপনাকে বা আপনার জন্মানোর আগেই আপনার পিতা মাতাকে মেরে ফেলে, তাহলে আপনার বর্তমান অস্তিত্বের কী হবে? এই সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায় না, তাই এগুলো কে বিজ্ঞানের ভাষায় প্যারাডক্স বলে (যা বাংলায় বলা হয় হেঁয়ালি)। আসলে প্যারাডক্স গুলো ভাবতে

খুব মজার। সব থেকে জনপ্রিয় প্যারাডক্স হল গ্রান্ডফাদার প্যারাডক্স। এক্ষেত্রে এক বদমাশ লোক টাইম মেশিনে করে অতীতে পাড়ি দিয়ে তার ঠাকুরদাকে হত্যা করে এল। এর ফলে পরিণামে তার কি হবে? হয়তো সে মারা যেতে পারে। কিন্তু সে যদি মারা যায় তবে টাইম মেশিনে করে সে অতীতে করে পাড়ি দিল কীভাবে? সত্যিই এসকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া খুবই কঠিন ব্যাপার কিংবা সম্ভবই না [অন্তত আমার সেটা মনে হয়]। তাই আমার মনে হয় অতীতে সময় পরিভ্রমণ করাও সম্ভব না (অন্তত এই তত্ত্ব অনুসারে)। বর্তমানে পদার্থবিজ্ঞানের এক শাখা কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অভূতপূর্ব উন্নতির ফলে আমরা জানতে পেরেছি যে অতীতে ভ্রমণ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে একটা বিশেষাকৃতি নল অতীতে যাবার টাইম মেশিনের কাজ করছে যাকে ওয়ার্মহোল [বাংলায় কীটগহ্বর বলা হয়] বলা হয়। এই ওয়ার্মহোল গুলির অবস্থান অতিক্ষুদ্র স্কেলে অণু-পরমাণুর চেয়ে ছোট আরও ক্ষুদ্রতর স্কেলে যাকে বলে কোয়ান্টাম ফোম। এখানেই ওয়ার্মহোল প্রতিনিয়ত সৃষ্টি হয় আবার মুহূর্তের মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু এরা সত্যিই দুটি আলাদা জায়গা তথা সময়ের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন করে। এভাবে আমরা অতীতে ভ্রমণ করতে পারব যদি আমরা তত পরিমাণে ছোটো হতে হবে অথবা কোনো একটি ওয়ার্মহোল বানিয়ে তাকে টাইম মেশিন হিসাবে ব্যবহার করতে হবে। যদিও কোনোদিন তা হয় তাহলে বর্তমানের এনার্জি অতীতে যাবার অনুমতি পাবে এবং অতীতে গিয়ে বিশাল পরিমাণ এনার্জির সার্জের সৃষ্টি করবে। ফলে ওয়ার্মহোল সৃষ্টি হবার প্রায় সাথে সাথেই ওয়ার্মহোলটি ধ্বংস হয়ে যাবে। ফলে আগের মতোই মানুষের পক্ষে অতীতে ভ্রমণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে যাবে।

কিন্তু এখানেই অনেকে থেমে যান। এই পর্যন্ত বলার পর অনেকেই ভাবেন যে টাইম ট্র্যাভেল কখনই সম্ভব না। কিন্তু আমি শুরুতেই বলে দিয়েছি যে টাইম ট্র্যাভেলের দুটি দিক রয়েছে। একটি অতীত এবং অন্যটি ভবিষ্যৎ। অনেকে ভাবতে পারেন যে এটা কীরকম কথা হল? আমি যখন নিজে বর্তমানে রয়েছি আর আমার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে কেবল আমার কাজের ওপর। তাহলে আমি কেমন করে ভবিষ্যতে যেতে পারব? ভবিষ্যতে গিয়ে কি আমি আমার বয়স্ক রূপটি দেখতে পারব? তাছাড়া আমার মন তো সর্বদা পরিবর্তনশীল। যেকোনো মুহূর্তে আমার মন বদলে যেতে পারে তাহলে তো আমার ভবিষ্যতও মুহূর্তে মুহূর্তে পরিবর্তন হবার কথা। কিন্তু আমি এখানে ভবিষ্যত বলতে বোঝাচ্ছি তা কোনো ক্ষণস্থায়ী ভবিষ্যত নয়, একেবারে পাকাপোক্ত ভবিষ্যত। এই ভবিষ্যতে আপনি কেবল একাই থাকবেন, আপনার কোনো দ্বৈত প্রতিরূপ থাকবে না কেননা আপনিই ভবিষ্যতে যাচ্ছেন তাহলে তার মানে আপনি আপনার বর্তমান সময় থেকেই ভবিষ্যতে যাচ্ছেন। একটু সহজ করে বলি, ধরুন ২০১১ সালে আপনি একটা রকেটে চেপে কাছাকাছি একটা নিউট্রন স্টারে গেলেন। যেহেতু নিউট্রন স্টারের ভর খুব বেশি তাই এর নির্দেশতন্ত্রের সময়ও খুব স্লো। ধরুন এর পৃষ্ঠের ওপর দাঁড়িয়ে একটা খুব শক্তিশালী টেলিস্কোপ দিয়ে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করছেন, তাহলে আপনি কি দেখবেন? টেলিস্কোপ দিয়ে দেখা যাবে যে পৃথিবীতে সকল কাজকর্ম খুব দ্রুত হচ্ছে বা সবই ফাস্ট ফরওয়ার্ডের মতো ছুটছে। কারণ নিউট্রন স্টারের সময় স্লো হওয়ায় আপনার সাপেক্ষে বাইরের তথা পৃথিবীর নির্দেশতন্ত্রের সময় ফাস্ট। ধরাযাক, এভাবে চলতে চলতে ১০ মিনিট সময় পার হয়ে পৃথিবীর সাপেক্ষে ৫ বছর পার করলেন। এরপর রকেটে চেপে পৃথিবীতে গেলেন। এভাবে আপনি ভবিষ্যতে ৫ বছর অতিক্রম করলেন। এবার আপনি নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি পৃথিবীতে গিয়ে কি আপনার প্রতিরূপ দেখতে পারবেন? অবশ্যই না। তাই ভবিষ্যতে আপনার দ্বৈত প্রতিরূপ থাকবে না।

             এখন, ভবিষ্যতে ভ্রমণ করার অর্থ বলতে খুবই শর্টকাটে বর্তমান থেকে নিজের নির্দেশতন্ত্রের সাপেক্ষে বাইরের নির্দেশতন্ত্রের সময় কে ফাস্ট করে দেওয়া। সুতরাং বলতে গেলে নিজের সময়কে স্লো করা [বাইরের নির্দেশতন্ত্র এর সাপেক্ষে]। আচ্ছা কেউ যদি প্রশ্ন করে যে নিজের সময় স্লো হলে বাইরের জগৎ আমার সাপেক্ষে কী হবে? উত্তর বলতে গেলে ভাবতে হবে গোড়া থেকে। নিজের সময় স্লো মানে বাইরের সময় ফাস্ট আর বাইরের সময় ফাস্ট হলে আমি দেখব বাইরের সব কিছুই আমার সাপেক্ষে ফাস্ট ফরওয়ার্ডের মতো ছুটছে। তেমনি তাদের মনে হবে যেন আমি কচ্ছপের মতো চলছি। এটাই হল ভবিষ্যতে যাবার অন্যতম রাস্তা, একটা শর্টকাট, রহস্যে ভরা মজাদার ভ্রমণ এক সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যতের দিকে।

এত সুন্দর রাস্তার ব্যাপারে তো বললাম, কিন্তু এমন রাস্তা বানাবো কীভাবে? উত্তর যানা আছে আপনাদের কারোর? যদি যানা থাকে তবে খুব ভালো আর যদি না যানা থাকে তবে আমার পক্ষে যতটা সম্ভব আমি জানিয়ে দিচ্ছি। নিম্নোক্ত একটি ছোট্ট পরীক্ষার সাহায্যে যদি প্রমাণ করতে পারি যে সময় আপেক্ষিক, তাহলেই টাইম মেশিনের সূত্র আমরা সহজেই বার করে নিতে পারব।

ধরাযাক,

একটা কাল্পনিক ট্রেনের যার ছাদের নিচের দিকে একটি পূর্ণ প্রতিফলক আটকানো আছে, যার মেঝেতে একটি ছেলে অমল দাঁড়িয়ে আছে হাতে একটা টর্চলাইট নিয়ে। এখন ট্রেনটি ট্রেনের বাইরের নির্দেশতন্ত্র সাপেক্ষে স্থির অবস্থায় আছে। অমল টর্চটি মেঝের ওপর প্রদত্ত চিত্রের ন্যা

য় রাখল ফলে আলোটির প্রতিফলন হল নিম্নদিকে। এক্ষেত্রে ভেতরের এবং বাইরের নির্দেশতন্ত্র সাপেক্ষে আলোর গতিপথ হবে সরলরৈখিক যা AB পথ বরাবর (চিত্র – ১)। এখন ধরলাম ট্রেনটি কোনো এক সময় ২.৪ x ১০৮ মি/সে  সমবেগ নিয়ে চলতে শুরু করল। এখন যেহেতু ট্রেনটি ঐ বেগে গতিশীল তাই অমল ও তার টর্চ লাইটও ওই একই বেগে গতিশীল [এখানে প্রতি ধাপে মনে রাখতে হবে যে একটি নির্দিষ্ট মাধ্যমে আলোর বেগ সর্বদা ধ্রুবক] । তাদের সাপেক্ষে  অর্থাৎ সমবেগে চলমান নির্দেশতন্ত্র সাপেক্ষে টর্চ নির্গত আলোর গতিপথ তখনও হবে সরলরৈখিক। কিন্তু বাইরের নির্দেশতন্ত্র সাপেক্ষে এই গতিপথ হবে Zigzag আকৃতির (চিত্র – ২)।
ধরি, আলো ২ নং চিত্রের মতো AB থেকে BC পথে গেল এবং যেতে মোট ১০ সেকেন্ড সময় লাগল। অতএব ট্রেনটি একই সময়ে AD দূরত্ব অতিক্রম করে। এখন শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ ৩ x ১০৮ মি/সে। সুতরাং AB+BC পথে আলো কর্তৃক অতিক্রান্ত দূরত্ব ৩ x ১০৮x ১০ মি = ৩ x ১০৯ মি। একইভাবে ১০ সেকেন্ডে ট্রেন কর্তৃক অতিক্রান্ত দূরত্ব AD+DC = ২.৪ x ১০৯ মি। যেহেতু ত্রিভু

জ ABD ও ত্রিভুজ BCD সর্বসম হওয়ায় AB = BC = ১.৫ x ১০৯ মি এবং AD = DC = ১.২ x ১০৯ মি। [পাঠকের পড়ার সুবিধার জন্য আলো কর্তৃক অতিক্রান্ত সময়ের মান এরকম নেওয়া হল]

এখন, পিথাগোরাসের উপপাদ্যের সাহায্যে ত্রিভুজ ABD থেকে পাই,
অর্থাৎ বাইরের নির্দেশ নির্দেশতন্ত্রের সাপেক্ষে আলোর যেখানে প্রতিফলন ঘটে আবার ট্রেনের সেই আগের বিন্দুতে ফিরে আসতে সময় লাগছিল ১০ সেকেন্ড সেখানে ভেতরের নির্দেশতন্ত্রের সাপেক্ষে সেই একই বিন্দুতে আসতে সময় লাগে ৬ সেকেন্ড। অতএব সময় আপেক্ষিক। যেহেতু ট্রেনের ভেতরের নির্দেশতন্ত্রের সময় বাইরের থেকে স্লো তাই ভেতরে অবস্থানকারী কোনো ব্যক্তি বাইরের দুনিয়ার অনেকটা সময় কিন্তু ভেতরের নির্দেশতন্ত্রের সাপেক্ষে কম সময় কাটিয়ে ভবিষ্যতে ভ্রমণ করতে পারবে। অতএব এই ভাবে চিন্তা করলে ভবিষ্যতে ভ্রমণ করা সম্ভব। থিয়োরিটিকালি এই থিয়োরির সাহায্যে আমরা অদূর ভবিষ্যতে যেতে পারব আর সেজন্য আমাদের শুধু অত্যন্ত বেগ লাভ করতে হবে বা We have to go REALLY VERY VERY VERY FAST!!! আর এজন্য যে যন্ত্র তৈরি করতে হবে তাকে ত্বরান্বিত করার জন্য প্রচুর পরিমাণ শক্তি দিতে হবে। এবং বলতে গেলে বর্তমান প্রযুক্তিতে এত গতিবেগযুক্ত মানুষকে বহন করার মতো যন্ত্রও তৈরি করা যাচ্ছে না [অবশ্য লার্জ হেড্রন কোলাইডার এখনও পর্যন্ত পৃথিবীতে আবিষ্কৃত সবচেয়ে শক্তিশালী কনা ত্বরক যা প্রোটনকে আলোর বেগের ৯৯.৯

৯৯৯১% বেগে ত্বরান্বিত করে]।

এখন, উপরোক্ত তত্ত্ব থেকে এটা তো বার করে নিলাম যে সময় আপেক্ষিক কিন্তু বেগ বাড়লে সময় ধীর বা স্লো কতটা হবে তারও যদি একটা সূত্র বার করতে পারি তাহলে সেটাই হবে টাইম মেশিনের সূত্র। চলুনতো চেষ্টা করে দেখা যাক।

এক্ষেত্রে আবার উপরোক্ত চিত্রের সাহায্য নিতে হবে।

ধরি, ২ নং চিত্রে ত্রিভুজ ABD এর angle ABD এর সাপেক্ষে ভূমি BD এবং অতিভুজ AB এবং লম্ব AD
সুতরাং, এই যে সূত্রটি প্রতিষ্ঠিত হল সেটা সময় ও বস্তুর বেগের মধ্যে সম্পর্ক নির্দেশ করছে। আর এটাই হল স্যার আইনস্টাইনের স্পেশাল থিওরী অফ রিলেটিভিটি যা প্রকৃতপক্ষে একটা

টাইম মেশিনের সূত্র।

এখন ধরাযাক, কোনো একটি পরম স্থির স্থানের নিরিখে কোনো বস্তুর ভর m0 এবং v বেগে গতিশীল ওই একই বস্তুর ভর mv.

তবে ভর-সময় সূত্র হয়, কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশতন্ত্রের সাপেক্ষে কোনো বস্তুর আপাত ভর এবং বস্তুটির ঐ নির্দেশতন্ত্রে প্রবহমান সময়ের গুণফল সর্বদা ধ্রুবক।
এখন, লরেন্জ ট্র্যান্সফরমেশন অনুসারে,
এখানে, γ (গামা) হল লরেঞ্জ ফ্যাক্টর, যেকোনো গতিশীল বস্তুর ক্ষেত্রে এর মান সর্বদা ১ এর বেশি হয়।

ব্যবহারঃ এই থিওরী অফ রিলেটিভিটির সবচেয়ে উপযোগী ও ব্যবহার্য দিক হল Mass Effect থিওরী। এটিকে বর্তমান যুগে GPS বা Global Positioning System এ ব্যবহার করা হয়। GPS হল এমন একটা Device যা কোনো বস্তুর অবস্থান জানতে সাহায্য করে। যেহেতু পৃথিবীর ভর আছে তাই এর ভর সময়কে স্লো করে দেয় যার ফলে পৃথিবী পৃষ্ঠের উপরের আকাশে থাকা কোনো বস্তুর সময় পৃষ্ঠের সময়ের চাইতে তাড়াতাড়ি বয়ে চলে। তাই GPS এ যদি এই থিওরী ব্যবহার না করা হত তাহলে পৃথিবী পৃষ্ঠে থাকা কোনো বস্তুর অবস্থান নির্ণয়ে প্রতিদিন গড়ে ৭ কিমিঃ ত্রুটি হত। এই তত্ত্ব থেকে পাওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল শক্তি (E) এবং ভরের (m) ভেতর সম্পর্ক স্থাপন করা। এই সম্পর্কটি একটি বিখ্যাত এবং জনপ্রিয় ইকুয়েশন যা হল E=mc2 ; যেখানে m হল বস্তুর ভর, c হল আলোর বেগ এবং E হল m ভরের তুল্য শক্তি।

টাওয়ার অব হ্যানয়ঃ


ব্রহ্মাস্তুপ বা টাওয়ার অব হ্যানয় একটা মজার সমস্যা। সমস্যাটা একটা পৌরাণিক কাহিনীকে নিয়ে। পুরাণ মতে, বারানসীতে একটি মন্দির আছে। ব্রহ্মা (হিন্দু ধর্মমতে সৃষ্টিকর্তা) জগত সৃষ্টি কালে প্রথম এই মন্দিরটি তৈরি করেন, এতে ধাতব পাত্রে তিনটি হীরক দণ্ড স্থাপন করেন এবং প্রথম দন্ডে ৬৪টি সোনার চাকতি আছে। চাকতিগুলো এমন ভাবে রাখা ছিল যাতে বৃহত্তম চাকতিটি ছিল সবার নীচে এবং ক্ষুদ্রতম চাকতিটি সবার উপরে ছিল।

ব্রহ্মার নির্দেশে কর্মরত পুরোহিতগণ দিবারাত্র পরিশ্রম করে চাকতিগুলোকে এক দণ্ড হতে অন্য দণ্ডে স্থানান্তরিত করতে থাকবে। যতদিন না সবগুলো স্থানান্তরিত হয়, আর চাকতিগুলো এক দণ্ড হতে অন্য দণ্ডে সরানো মাত্রই ব্রহ্মার নির্দেশে সমস্ত জগত ধবংস হয়ে যাবে। কাজটি কম সময়ের মনে হলেও পুরোহিতগণ শেষ করতে পারছেন না। কারণ ব্রহ্মা তিনটি শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন:

১. একবারে মাত্র ১ টি চাকতি স্থানান্তরিত করা যাবে।
২. কোন ছোট আকারের চাকতির উপর বড় আকারের চাকতি রাখা যাবে না।
৩. উপরের ২টি নিয়ম মেনে মাঝখানের দণ্ডটিকে সাময়িক ভাবে ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু শেষে সব চাকতিগুলো অবশ্যই ৩য় দন্ডে আনতে হবে এবং ক্রমান্বয়ে সাজাতে হবে।

এখন কথা হচ্ছে সবচেয়ে কম কত বার চাকতিগুলোকে স্থানান্তরিত করা যাবে এবং আনুমানিক কত সময় লাগবে। হিসাব করে দেখা যায় যে, যদি একটি চাকতি এক দণ্ড হতে অন্য দণ্ডে সরাতে এক সেকেন্ডও সময় লাগে তবে সবগুলো চাকতি সরাতে ৫৮৫ বিলিয়ন (১ বিলিয়ন=১০০ কোটি বছর) বৎসর সময় লাগবে। কিন্তু বিশ্বব্রহ্মান্ডের বয়স ১৪ বিলিয়ন বৎসর। তবে আশা করা যায় ৫৮৫ বিলিয়ন বৎসরে বিশ্বব্রহ্মান্ড ধবংস না হলেও মন্দিরটি অবশ্যই ধবংস হয়ে যাবে। এই সমস্যাটি সমাধানের সত্যতা নির্ণয়ে জন্য আপনি নিজেও বাসায় পরীক্ষা করে দেখতে পারেন, তবে এ পরীক্ষা চাকতির বদলে ছোট-বড় মুদ্রা ব্যবহার করতে পারেন। আপনি নিজেই দেখুন কত কম সময়ে আপনি এর সমাধান করতে পারেন।

একটি জ্বলন্ত হাদীস..............আপনার জীবনের সাথে মিলিয়ে দেখুনতো

সুস্থতা আল্লাহর অপার রহমত...........রাসূল সা. বলেছেন, পাঁচটি বিষয়ের পূর্বে পাঁচটি বিষয়কে প্রাধান্য দাও: ১. বার্ধক্য আসার পূর্বে যৌবনকে ২.অসুস্থতার পূর্বে সুস্থতার ৩.দারিদ্র্যতার পূর্বে সচ্ছলতার ৪.ব্যস্ততার পূর্বে অবসরের এবং ৫. মৃত্যুর পূর্বে জীবনের। আমরা আমাদের জীবনের সাথি মিলিয়ে দেখি....... 

পাঁচটি গ্রহের আবহাওয়ায় জলের সন্ধান পেল নাসা

ভিনগ্রহীদের অস্তিত্বের সম্ভাবনাকে ফের আলোচনায় আনল নাসা। সৌরজগতের বাইরে অন্তত পাঁচটি গ্রহের আবহাওয়ায় জলের অস্তিত্ব লক্ষ্য করেছে তারা বলে নাসা জানিয়েছে। এর আগেও সৌরজগতের বাইরে বেশ কিছু গ্রহে জলের অস্তিত্ব জানা গিয়েছিল। তবে নাসা জানিয়েছে, এবারের আবিষ্কার স্বতন্ত্র, কেন না এই প্রথম গ্রহগুলির আবহাওয়ায় থাকা জলের পরিমানের একটা প্রাথমিক ধারণা পাওয়া গেছে।
পাঁচটি গ্রহের নাম- ডব্লুএএসপি ১২বি, ডব্লুএএসপি ১৭বি, ডব্লুএএসপি ১৯বি,  এইচডি২০৯৪৫৮বি এবং এক্সও ১বি। হাবল টেলিস্কোপের সাহায্যে গ্রহগুলির সন্ধান পেয়েছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। হাবলের সাহায্যেই গ্রহগুলির আবহাওয়া সম্পর্কে গবেষণা করেছেন তাঁরা।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পাঁচটি গ্রহে প্রত্যেকটিতে জলের উপস্থিতি ও প্রভাব আলাদা আলাদা। যেমন ডব্লুএএসপি ১৭বি গ্রহটির আবহাওয়া স্যাঁতস্যাঁতে এবং সামান্য স্ফীত।  এইচডি২০৯৪৫৮বি গ্রহটি থেকে আবার জলের ভাল পরিমাণ উপস্থিতির সঙ্কেত মিলেছে। বাকি তিন গ্রহের আবহাওয়ায় জলের উপস্হিতি অনেকটা একইধরনের।

নাসার মতে জলের অস্তিত্ব রয়েছে মানেই অক্সিজেনের উপস্থিতিও রয়েছে। আর এই দুই উপাদানই প্রাণ সৃষ্টির অনুকূল। এই গবেষণা মহাকাশ বিজ্ঞানের আরও একটি নতুন দিক খুলে দিয়েছে বলেও জানিয়েছে নাসা।

মহাকাশে কথা বলবে রোবট

উন্নত প্রযুক্তিতে শক্তিশালী দেশ জাপান এবার লক্ষ্য নির্ধারন করেছে মহাকাশে কথা বলতে সক্ষম একটি ছোট রোবট প্রেরন করবে। ইতিমধ্যে এই ছোট রোবটটি তৈরি করেছে দেশটি। যার নাম দেয়া হয়েছে কিরোবো। খবর মাশাবেল ডটকমের। কিরোবো নামের এ রোবটটিকে বলা হচ্ছে "রোবট মহাকাশচারী"। যেটি মহাকাশে এবং মাটিতে মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে পারে। রোবটিটি আগামী ৪ আগস্ট আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে লঞ্চের জন্য নির্ধারন করা হয়েছে। কিরোবো রোবট প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, মহাকাশে এই প্রথম রোবট টু মানুষের আলাপচারিতার অংশ নিবে কিরোবো রোবট।

মহাকাশে ঔষধের কার্যকারিতা কম

সাম্প্রতিক কিছু রিপোর্টে দেখা গেছে মহাকাশচারীরা ঔষধের উপর ভরসা করতে পারেন না। যেমন প্যারাসিটামল, এন্টিবায়োটিক ঔষধ গুলো মহাকাশে কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলে। জনসন স্পেস সেন্টার এর বিজ্ঞানী দেখিয়েছেন মহাকাশে ঔষধের কার্যকারিতা কমতে থাকে।এর জন্য অন্যতম কারন হতে পারে আমাদের শরীরে ঔষধের যে প্রয়োগ তা মহাকাশে ঠিকমত হয় না। তথ্যসূত্র 

মহাকাশে বেলুন পাঠাল নাসা


প্রযুক্তি সংবাদবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাশএবল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ব্রিসন নামের ৬৭১ ফুট লম্বা এ বেলুন আইএসওএন ধূমকেতুর নতুন রহস্য উন্মোচন করবে। আট হাজার পাউন্ড ওজন বহনে সক্ষম বেলুনটি কক্ষপথের বিভিন্ন দিক অতিক্রমের সময় ছবি তুলে পৃথিবীতে পাঠাবে।
২৮ নভেম্বর টেলিস্কোপ ছাড়া ধূমকেতুটি আকাশে খালি চোখেই দেখা যাবে। ২৮ সেপ্টেম্বর ব্রিসন মহাকাশের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছে বলে নিশ্চিত করেছে নাসা। এটি এক লাখ ৪০ হাজার ফুট গতিতে মহাকাশের উদ্দেশে যাত্রা করে।
এদিকে নাসা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের একটি দল টেলিস্কোপের মাধ্যমে ব্রিসনের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করছেন। টেলিস্কোপের সঙ্গে ব্রিসনের কিছুটা যান্ত্রিক গোলযোগের ফলে নতুন কোনো তথ্য পায়নি নাসা। এ সমস্যা সমাধানে নাসার একটি টিম কাজ করছে।

নাসা আর বাআবিস(বাংলাদেশ আকাশ বিজ্ঞান সংস্থা)প্রধানের সাক্ষাতকার

সিরাতুল মুস্তাকিম চাই, সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে আল্লাহ নেয়ামত দান করেছেন, তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি আল্লাহের গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে **** দ্বীনের ব্যাপারে কোন জবরদস্তি বা বাধ্য-বাধকতা নেই। নিঃসন্দেহে হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়েগেছে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম নাসা আর বাআবিস(বাংলাদেশ আকাশ বিজ্ঞান সংস্থা)প্রধানের সাক্ষাতকার এই চমৎকার পৃথিবীটা ধ্বংস হয়ে যাবে আর তাকে উপলক্ষ করে চারিদিকে এক উৎসব উৎসব আমেজ বিরাজ করবে তার ধারনাই আমার ছিলনা। ২১ডিসেম্বর,২০১২ কে উপলক্ষ করে সারা বছর যেন ছিল এক অঘোষিত উৎসব, ব্লগে,পত্রিকায়,সিনেমায়,ম্যাগাজিনে এর প্রচারনার ছিলনা কোন শেষ, তবে কাল বাদে পরশু উৎসব পালন কারিরা কি করবে কে জানে???? নাকি আবার নুতন কোন তারিখ নিয়া লাফালাফি শুরু করবে!!! আসলে এই অঘটিত ঘটনা নিয়ে লাফা-লাফির একটাই কারন আর তা হল দুনিয়া জুড়ে আজ হয়ত বেশীর ভাগ মানুষই আসুখি। সবাই হয়ত কোন না কোন ভাবে অসুখি, আর তা না হলে কি নিজেদের ধবংস নিয়ে এই রকমের উৎসব উৎসব আমেজের সৃষ্টি হবার কথা???? যাই হোক আমি একসাথে নাসা প্রধান আর বাআবিস(বাংলাদেশ আকাশ বিজ্ঞান সংস্থা)প্রধানের সাক্ষাতকার নিয়ে নিলাম। প্রশ্ন একঃ ২০১২তে পৃথিবী কি পৃথিবীর প্রতি কোন হুমকি আসবে নাকি? অনেক ওয়েব সাইট বলছে পৃথিবী ২০১২ এর ডিসেম্বরে ধবংস হয়ে যাবে? নাসার উত্তরঃ ২০১২তে পৃথিবী ধবংস হবে না। এই গ্রহটি ৪ বিলিয়ন বছর ধরে খুব সুন্দর ভাবেই চলছে এবং দুনিয়া জোড়া বিশ্বস্ত বিজ্ঞানীরা ২০১২ এর সাথে সম্পর্কিত আছে এমন কোন প্রলয়ের হুমকির সম্ভাবনা খুজে পাননি। বাআবিসঃ দেখেন ভাই আমি পিওর ফিজিক্স এর লোক না, আমি এপলাইড ফিজিক্স এর লোক, জিবনে এস্ট্রনমি পড়ি নাই, শখেও না, মন্ত্রী আমার এলাকার এম,পি বইলা আমারে বাআবিস এর প্রধান বানাইসে। তাই আমাকে এই সকল প্রশ্ন করবেন না!!!!!! প্রশ্ন দুইঃ ২০১২ তে যে পৃথিবী ধবংস হয়ে যাবে এই অনুমানটার ভিত্তিটা কি? নাসার উত্তরঃ সুমেরিয়ানদের আবিষ্কার করা গ্রহ নিবিরু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে, এই কল্পনা থেকেই এই গল্পের শুরু। ২০০৩ এর মে মাসে এটি পৃথিবী ধবংসের কারন হবে বলে প্রথমে অনুমান করা হয়, তারপর ঐ সময়ে কিছুই না হওয়াতে, মায়ানদের বর্ষ পঞ্জিকার সাথে মিল করে এই মহাপ্রলয়ের দিনের তারিখ ঠিক করা হয়, ২০১২ সালের ডিসেম্বর ২১ তারিখ। বাআবিসঃ যত সব পাগল ছাগোল আর কি!! আমার পোলাডার নাম নিবির, হে ক্যান পৃথিবী ধবংসের কারন হইব, আজবতো??!! আর আমি হরতালে কখন আমার গাড়িটা ধবংস হয় এই টেনসানে বাচিনা আপনে আইসেন পৃথিবীর ধবংস লোয়া ফাইজলামি আরকি??? প্রশ্ন তিনঃ ২০১২ তে কি মায়ানদের বর্ষ পঞ্জিকার শেষ? নাসার উত্তরঃ ঠিক যেমন আপনার বাড়ির দেয়ালে ঝুলে থাকা পঞ্জিকা গুলো ৩১শে ডিসেম্বর শেষ হয়ে যায় কিন্তু থেমে যায় না বরং জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে আবার শুরু হয়, তেমনি মায়ানদের এই দির্ঘ সময়ের পঞ্জিকার শেষ হয়ত ২১ ডিসেম্বর ২০১২, কিন্তু তা চিরকালের জন্য থেমে না গিয়ে বরং আবার একটা নুতন তারিখ দিয়ে শুরু হবে। বাআবিসঃ নুতন জেনারেসানে সকলেরই দেশপ্রেমের অভাব আর কি, খালি মায়ান পঞ্জিকা আর মায়ান পঞ্জিকা, বাংলা পঞ্জিকার কথা মনে থাকে না?? মায়ানগো পঞ্জিকা ডিসেম্বরে শেষতো কি হইসে, আমাগো চৈত্র মাস আইতেতো সামনের এপ্রিল মাস পর্যন্ত টাইম আছে। যত সব ফালতু পোলাপাইন। প্রশ্ন চারঃ নাসা নাকি ২৩ থেকে ২৫ ডিসেম্বর সারাটা সময় ব্ল্যাক আউটের কথা বলছে? নাসার উত্তরঃ একেবারেই না, হতেই পারেনা, না নাসা না অন্য কোন বৈজ্ঞানীক সংস্থা কেউই এরকম কোন কিছু সতর্কতা দেয়নি। ঐ সময়ে মাহাবিশ্বের কোন এক প্রকারের সরল রৈখিক অবস্থানের যে সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে তা একেবারেই ভিত্তিহীন। বাআবিসঃ যত আজে বাজে চিন্তা, আমার এলাকায় তো প্রতি মাসেই ২-৩ দিনের ব্ল্যাক আউট আর প্রতি দিন ৪-৫ ঘন্টার ব্ল্যাক আউট হয়, এই নিয়া চিন্তার কি আছে? প্রশ্ন পাঁচঃ গ্রহগুলো কি এমন ভাবে সরল রৈখিক অবস্থানে আসতে পারে যাতে পৃথিবীর ক্ষতি হয়? নাসার উত্তরঃ গ্রহগুলোর সরল রৈখিক অবস্থানের সম্ভাবনা আগামী কয়েক দশকেও নাই, আর যদি তা হয়ও তাহলেও তার প্রভাব পৃথিবীর উপর খুবই সামান্য। ১৯৬২ সালে এ রকমের একটি বড় ঘটনা ঘটেছিল, এর পর ১৯৮২ আর ২০০০ সালেও হয়েছিল, কৈ পৃথিবীরতো কিছুই হয় নাই!! আর প্রতি ডিসেম্বরেই পৃথিবী সূর্য আর আমাদের এই ছায়াপথের কেন্দ্র এক সরল রেখায় আসে, এটা একটা নয়মিত বার্ষিক ঘটনা মাত্র। বাআবিসঃ আদার ব্যাপারির জাহাজের খবর আর কি?? বিশ্ববিদ্যালয় আর স্কুলের ব্যাঞ্চ গুলাতে এত ফুটা যে জিবনে সরল রেখা ঠিক মত আঁকতে পারি নাই, আর তুমি আমারে প্রশ্ন করতাসো গ্রহের সরল রৈখিক অবস্থান নিয়া। যাওতো যাও শান্তিতে থাকতে দাও। প্রশ্ন ছয়ঃ এমন কোন গ্রহ বা নিবিরু বা বাদামি বামন বা এক্স গ্রহ বা এরিস নামক কিছু আছে কি যা ক্রমাগত পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে, যা পৃথিবীতে বিরাট কোন ধবংস যজ্ঞের কারন হবে? নাসার উত্তরঃ নিবিরু বা অন্য গল্প গুলো ইন্টারনেটে প্রচারিত অপলাপ ব্যাতিত কিছু নয়। এগুলোর কোন সত্য ভিত্তি নাই। এক্স গ্রহ বা নিবিরুর যদি সত্যিই ২০১২তে পৃথিবীকে আঘাত করার সম্ভাবনা থাকত তাহলে হয়ত আরো ১০ বছর আগে থেকে বিজ্ঞানীরা এর অনুসরন করতে থাকত, আর অনেক আগে থেকেই তা হয়ত খালি চোখেই দেখা যেত, অবশ্যই এর কোন অস্তিত্ত নাই। তবে হ্যা এরিস এর ব্যাপারটা সত্যি, এটি একটি বামন গ্রহ, এটি প্লুটোর মত বহির সৌরজগৎ এই থেকে যাবে, আর খুব বেশী হলে তা পৃথিবীর ৪ বিলিয়ন মাইলের মধ্যে আসতে পারে। এর বেশী নয়। বাআবিসঃ দেখ নিবির হইল আমার পোলা আর এরিস হইল হারকিউলিসের ভাই, বাকি গুলারে আমি চিনি না, শেষ বয়সে আইসা আমার বিয়াটারে খাইবা নিকি??? কিয়ের মধ্যে কি, পান্তা ভাতে ঘি??!!! প্রশ্ন সাতঃ মেরু পালটে যাবার সূত্রটা কি? একদিনে বা কয়েক ঘন্টায় পৃথিবীর চুম্বক ক্ষেতের ১৮০ ডিগ্রী ঘূর্ণন কি সম্ভব ? নাসার উত্তরঃ পৃথিবীর উলটা ঘুরতে শুরু করাটা প্রায় অসম্ভব একটা ব্যাপার। হ্যা এটা ঠিক যে এন্টারটিকা একসময় বিষুবিয় অঞ্চলে ছিল কিন্তু এটা একেবারেই ভিন্ন একটা বিষয়। এটার সাথে মেরু পরিবর্তন সূত্রের সম্পর্ক নাই। এই কথা গুলো মানুষকে শুধু বোকা বানানোর জন্যই করা হয়েছে। তবে হা চুম্বকিয় মেরুর পরিবর্তন হয়, তবে তা হতে গড়ে ৪০০,০০০ বছর লাগে। কিন্তু আমরা যত দূর জানি এতে পৃথিবীর কোন ক্ষতি হয় না। আর আগামী দশ লক্ষ বছরে এই ঘটনা ঘটার কোন সম্ভাবনা নাই। বাআবিসঃ ঐ মেরুর কথা জানিনা , তবে আমার মেরু পরিবর্তনের সময় কাছায়া আইসে, আর এ জন্যই এলাকার বি এন পির মোকলেস ভাইয়ের সাথে সপ্তায় একদিন কইরা ফোনে যোগাযোগ রাখতাসি। প্রশ্ন আটঃ ২০১২তে কি কোন গ্রহানু আঘাত করবে পৃথিবীকে? নাসার উত্তরঃ এটা পৃথিবীতে সব সময়ই হয়। কিন্তু বড় আঘত হয় খুবই কম। শেষ বড় আঘতটা ছিল ৬৫ মিলিয়ন বছর আগে, যার ফলে ডাইনোসাররা বিলুপ্ত হয়েছিল বলে ধারনা করা হয়। নিকট ভবিষতে এই রূপ কোন সম্ভাবনা নাই। বাআবিসঃ যত সব আচিন্তা কুচিন্তা, জামাততো ঠিকি ট্রাইবুনালে আঘাত কইরা ফালাইসে হেই চিন্তা নাই??? আবুল সাব ঠিকি পদ্মাসেতুতে আঘাত কইরা ফালাইসে হেই চিন্তা নাই?????? প্রশ্ন নয়ঃ নাসার বিজ্ঞানীরা ২০১২সালে পৃথিবী ধবংস হয়ে যাবে এই দাবিটাকে কি ভাবে দেখছেন? নাসার উত্তরঃ এই দাবির পিছনে বিজ্ঞানের যুক্তি কৈ? প্রমান কৈ? বৈজ্ঞানীক কল্পকাহিনির ভিত্তিতে বইলিখে, ইটারনেটে প্রচার করে চলচিত্র বানিয়ে বাস্তবতাকে পরিবর্তন করা যায় না। ২০১২তে কোন প্রকার অসংলগ্ন বিপর্যয় ঘটবে বলে প্রমান এখন আমরা পাইনি। বাআবিসঃ কি কইতেছেন এই সব, ২০১৩তে বড় মাইয়াটারে বিয়া দিমু ঠিক করছি, তার পর পাপ ধুইতে হজ্জে যামু ২০১৪তে , বাড়া ভাতে ছাই দিবেন নিকি???? প্রশ্ন দশঃ ২০১২তে সৌর জড়ের কারনে কোন বিপর্যয়ের সম্ভাবনা আছে কি? নাসার উত্তরঃ সৌর ঘটনা গুলো একটা চক্রাকার নিয়ম মেনে চলে, এবং এই চক্র প্রায় ১১ বছরের। ১১ বছর পর পর এমন একটা সময় আসে যখন সূর্যের ফুল্কি গুলো বৃদ্ধি পায়, এই সময় কৃত্তিম উপগ্রহ ভিত্তিক যোগাযোগ এবং বিদ্যুৎ দিয়ে চলে এমন যন্তপাতির ক্ষতির একটা সভাবনা থেকে যায়। কিন্তু ২০১২তে এরো কোন সম্ভাবনা নাই। সূর্যের এই চক্রাকার অঘটন ২০১২-২০১৪ এই সময়ের কোন এক সময় হয়ত আসবে। সাধারনত এই অনুমান ভুল হয় না। বাআবিসঃ সিডর আর আইলার ইম্প্যাক্টই এখন শেষ হয় নাই, আর সৌর ঝড়, যত সব কুচিন্তা, গেলি এইখান থেকা। কখন থেকা কইতাসি নিবির আমার পোলার নাম, ঐ এক্কেরে ভালো পোলা, যা ভাগ এইখান থেকা, আর আমার এই সাক্ষাতকার যদি ছাপবি তাইলে নান্দাইলের ইউনুসরে(নৌ মন্ত্রীরে) দিয়া তোর চোখ উঠায়া দিমু। বাআবিস বলতে বাংলাদেশে কিছু নাই, তাই এই অংশটা মিথ্যা। আর নাসার অংশটা সত্য কেউ আরো বিস্তারিত জানতে চাইলে (এই ঠিকানায় ) যান। স্বপ্ন আমার এক সময় বাআবিস(বাংলাদেশ আকাশ বিজ্ঞান সংস্থা) নামে কিছু থাকবে। আর তার প্রধানের দিকে সারা পৃথিবী তাকিয়ে থাকবে। মহাপ্রলয় নিয়া কেন সবাই এত ব্যাস্ত বুঝিনা। আর ইসলামে বিশ্বাসীদের তো এই ব্যাপার নিয়া ব্যাস্ত হবার কোন কারনই নাই। কারন ইসলাম অনুসারে, একটা ব্যাপারে সকল মানুষ সমান জ্ঞানী, আর তা হল মাহাপ্রলয়ের দিনের ক্ষন। ঠিক কখন মহাপ্রলয় হবে এক আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না, জানবেও না। তবে মাঝে মাঝে অবশ্যই মনে হয় যে ঐ দিন বেশী দূরে নাই যে দিন, কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।