এখানে ক্লিক করুন আর দেখুন জাদু

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

ভূমিকম্পের আভাস দেবে ‘ঝিঁঝিঁপোকা’

bdnews24 news image
ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে প্রথম সারির একটি হল মেক্সিকো। ভূমিকম্পের আগামবার্তা পাওয়ার জন্য ১৯৯১ সালে মেক্সিকোতে চালু করা হয় স্যাসমেক্স ফ্যাসিলিটি যা ভূগর্ভে স্থাপন করা বিভিন্ন সেন্সর থেকে ডেটা সংগ্রহ করে ভূমিকম্পের আগামবার্তা প্রদান করবে।
চড়া মূল্যের কারণে অধিকাংশ মানুষেরই নাগালের বাইরে এই প্রযুক্তি। তবে সম্প্রতি আন্দ্রেজ মেইরা নামক একজন প্রযুক্তিবিদ সর্বসাধারণের হাতে এই সেবা তুলে দেওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন।
সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেইরা জানিয়েছেন স্থানীয় কিছু প্রকৌশলী এবং সিলিকন ভ্যালিভিত্তিক বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মিলে ‘স্যাসমেক্স’ প্রযুক্তি জনসাধারণের জন্য নিয়ে আশা সম্ভব।
মেক্সিকো সিটিতে ১৯৮৫ সালে ৮.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ১০ হাজার লোক মারা যাওয়ার পর থেকেই ১২২ মিলিয়ন বাসিন্দার ল্যাটিন আমেরিকান দেশটি ভূমিকম্পের আগাম বার্তা পাওয়ার জন্য গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যেই ১৯৯১ সালে চালু করা হয় স্যামসেক্স ফ্যাসিলিটি যা মেক্সিকান উপকূলে বিভিন্ন ভূগর্ভস্থ ফাটলে স্থাপন করা সেন্সর থেকে ডেটা সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করে। সতর্কবাণী প্রচারকারী গ্রাহকযন্ত্রগুলো স্থাপন করা হয়েছে দেশটির পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে যার মধ্যে রয়েছে রাজধানী মেক্সিকো সিটি এবং অ্যাকাপুলকো। গ্রাহকযন্ত্রগুলো ভূমিকম্পের কোনো সংকেত পাওয়ামাত্রই আশপাশের মানুষজনকে সতর্ক করে দেবে। যার মাধ্যমে মানুষ ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হওয়ার আগেই মূল্যবান কিছু সময় হাতে পাবে।
কিন্তু সর্বস্তরের মানুষের পক্ষে এই গ্রাহকযন্ত্র কেনা সম্ভব নয়। একট রিসিভার সেটের মূল্য প্রায় ৩৩০ ডলার যা অধিকাংশ মেক্সিকান অধিবাসীর জন্য বিলাসিতার সমতুল্য। স্থানীয় প্রযুক্তিবিদ আন্দ্রেজ মেইরা মনে করেন ভূমিকম্পের সতর্কবাণী সবার জন্যেই গুরুত্বপূর্ণ। ২০১০ সালের হাইতির ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রত্যক্ষদর্শী মেইরা বলেন, মেক্সিকোর মত ভূমিকম্পপ্রবণ জায়গায় না থেকে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে আন্দাজ করা সম্ভব নয়।
স্প্যানিশ শব্দ ‘গ্রিলো’ বাংলায় যার অর্থ ঝিঝি পোকা। মেইরার উদ্ভাবিত ৫০ ডলার মূল্যের সতর্কবার্তা প্রদানকারী ডিভাইসটির নাম রাখা হয়েছে ‘গ্রিলো’। টেবিল ঘড়ির মত দেখতে ডিভাইসটির কাজ হচ্ছে ‘স্যামসেক্স’ এর ব্যবহৃত বিশেষ ফ্রিকোয়েন্সি থেকে তথ্য সংগ্রহ করা। ভূমিকম্পের কোনো সঙ্কেত পেলে জোরাল শব্দের মাধ্যমে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করবে ডিভাইসটি। দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য উজ্জল আলোর ঝলকানিও থাকবে এর সঙ্গে। মূল্যের ব্যাপারে ডিভাইসটি অধিকাংশ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে বলেই মনে করেন মেইরা।
তবে কেবল বিপদের আগামবার্তা দুর্ঘটনা থেকে পরিত্রাণের জন্য যথেষ্ট নয়। বিপদসংকেত পাওয়ার পরেও সঠিক কাজটি করার জ্ঞান থাকা দরকার। তাছাড়া মেক্সিকোতে এমন অনেক মানুষ আছেন, ৫০ ডলার মূল্যের ‘গ্রিলো’ যাদের সামর্থ্যের বাইরে। এসব সমস্যার সমাধানই পরবর্তী লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন ‘গ্রিলো’র উদ্ভাবক আন্দ্রেজ মেইরা।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উৎকর্ষে মানবজাতির ধ্বংস দেখছেন হকিং নিউজ ডেস্ক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

bdnews24 news image
মানুষের সমকক্ষ কিংবা তারচেয়েও বেশি বুদ্ধিমত্তার যন্ত্র তৈরির চেষ্টা শেষ পর্যন্ত পুরো মানবজাতিকে অস্তিত্বের সংকটে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং।
বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে বৃটিশ এই তত্ত্বীয় পদার্থবিদ বলেছেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) পূর্ণ অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত মানব জাতির সমাপ্তি ডেকে আনতে পারে।”
অ্যামায়োট্রোফিক লেটারাল স্কেরোসিস নামে স্নায়ুতন্ত্রের এক জটিল রোগে (মোটর নিউরন) আক্রান্ত হকিংয়ের দেহের বেশিরভাগটাই অসার। ফলে যন্ত্রের সহায়তা নিয়ে তাকে কথা বলতে হয়, করতে হয় লেখালেখি। ইন্টেলের তৈরি সেই যন্ত্রও চলে প্রাথমিক স্তরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায়।
ওই যন্ত্রের নতুন সংস্করণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবেই বিবিসিকে মানবজাতিকে নিয়ে নিজের শঙ্কার কথা বলেন বিশ্বখ্যাত এই বিজ্ঞানী।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রথমদিকের যন্ত্রগুলোর যে উন্নয়ন এ যাবৎকালে হয়েছে সেগুলোর উপযোগিতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত। কিন্তু মানুষের সমান বা বেশি বুদ্ধিমত্তার যন্ত্র তৈরি করা গেলে তার ফল কতোটা ভাল হবে তা নিয়েই তিনি সন্দিহান।
“এরা নিজেরাই নিজেদের কর্তৃত্ব নেবে। আর নিজেদের আরো বদলে নিয়ে দ্রুত সংখ্যা বাড়াবে তারা। সেই তুলনায় জৈব বিবর্তনের গতি অনেকটাই ধীর বলে মানুষ প্রতিযোগিতায়  টিকতে পারবে না, পিছিয়ে পড়বে।”
হকিংয়ের মতো শঙ্কা এর আগেও অনেকে প্রকাশ করেছেন। বুদ্ধিমান যন্ত্র শিগগিরই  মানুষের অনেক কাজের দায়িত্ব নেবে এবং এর ফলে লাখ লাখ মানুষ কাজ হারাবে বলে তাদের ধারণা।
স্টিফেন হকিং ইন্টারনেটের ভালো-মন্দ নিয়েও কথা বলেছেন। তিনিও মনে করেন, ইন্টারনেট এখন সন্ত্রাসীদের অন্যতম ‘কমান্ড সেন্টার’ হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, “হুমকি (সন্ত্রাসীদের) মোকাবিলায় ইন্টারনেট কোম্পানিগুলোর আরো অনেক কিছু করা উচিৎ। কিন্তু ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও স্বাধীনতায় ছাড় না দিয়ে তা করাই হলো মূল সমস্যা।

স্মৃতিবিভ্রমে মার্স রোভার

bdnews24 news image
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, স্মৃতি সমস্যায় ভুগছে মঙ্গলে অবস্থানরত রোভার অপারচুনিটি। দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে গ্রহটিতে গবেষণা করছিল সম্প্রতি সমস্যা আক্রান্ত এ রোভারটি।
এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, প্রকল্পটির সঙ্গে যুক্ত দল ঠিক কীভাবে এই সমস্যা সমাধান করবে সে বিষয়ে একটি রূপরেখা তৈরি করেছেন নাসার প্রকল্প পরিচালক জন ক্যালাস।
অপারচুনিটি দলের ধারণা, হার্ডওয়্যারের ‘বার্ধক্যজনিত ত্রুটি’ রোবটটির ফ্ল্যাশ মেমোরিতে প্রভাব ফেলায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে ত্রুটিযুক্ত অংশটি যাতে রোভারের স্মৃতিতে প্রভাব ফেলতে না পারে তা এর সফটওয়্যার ‘হ্যাক করে’ ঠিক করা হবে এমন একটি সমাধান বের করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
প্রকল্প পরিচালক ক্যালাস সমস্যাটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানিয়েছেন, রোভারে ভলাটাইল ও নন-ভলাটাইল নামের দু’ধরনের স্মৃতি থাকে। রোভারকে যদি গতানুগতিক কম্পিউটার হিসেবে চিন্তা করা হয়, তাহলে নন-ভলাটাইল মেমোরিকে হার্ডড্রাইভ ও ভলাটাইল মেমোরিকে র‌্যামের সঙ্গে তুলনা করা যায়। বর্তমানে অপারচুনিটির হার্ডওয়্যারের বয়সজনিত ত্রুটির কারণে নন-ভলাটাইল মেমোরিটিতে সমস্যা হচ্ছে।
এ সমস্যার ফলে রোভারটি ফ্ল্যাশ মেমোরিতে টেলিমেন্ট্রি ডেটা সেভ করার চেষ্টা করছে, কিন্তু নির্দষ্ট সময় পরে রোভার বন্ধ করে দেওয়ামাত্র সেখান থেকেও ডেটা মুছে যাচ্ছে বলেই জানিয়েছেন ক্যালাস।

বন্ধ করতে হবে জীবাশ্ম জ্বালানী উত্তোলন

বন্ধ করতে হবে জীবাশ্ম জ্বালানী উত্তোলন
Published: 2015-01-13 18:16:16 BdST
bdnews24 news image
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইলে বন্ধ করতে হবে জীবাশ্ম জ্বালানী উত্তোলন। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের বিজ্ঞানীদের করা সাম্প্রতিক এক গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতার হার ‘২সি’-এর নিচে রাখার লক্ষমাত্রা অর্জন করতে চাইলে উত্তোলন করা যাবে না মাটির নিচে থাকা জীবাশ্ম জ্বালানীর সিংহভাগই।
এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, গোটা বিশ্বে আবহাওয়ার বিপজ্জনক পরিবর্তন ঠেকাতে ২০৫০ সাল পর্যন্ত কী পরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানী উত্তোলন করা যেতে পারে তার আনুমানিক হিসাব দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
ওই গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘২সি’ লক্ষ্য মাত্রা অর্জনের জন্য মাটির নিচে মজুদ ৮০ শতাংশ কয়লা, ৫০ শতাংশ গ্যাস এবং ৩০ শতাংশ তেল উত্তোলন করা বা জ্বালানী হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
এ প্রসঙ্গে গবেষক দলের প্রধান ড. ক্রিস্টোফি ম্যাকগ্লেড বলেন, “২সি তাপমাত্রা সীমারেখা বজায় রাখার জন্য যে পরিমাণ জীবাশ্ম জ্বালানী অব্যবহৃত রাখা উচিত, সেগুলোর নির্দিষ্ট পরিমাণ ও অবস্থান সম্পর্কে আমরা এখন জানি। নীতি নির্ধারকদের বোঝা উচিত যে, নিজ দেশের সকল জীবাশ্ম জ্বালানী ব্যবহারের যে ইচ্ছা তাদের মধ্যে রয়েছে তা তাদের ‘২সি লক্ষ্য’ সম্পর্কে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বিরোধী।”
অতীত গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সব মজুদ জীবাশ্ম জ্বালানী সম্পদ পুড়িয়ে ফেললে তা থেকে ২সি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তিনগুণ বেশি কার্বন নির্গত করবে।

পৃথিবীর কেন্দ্রমণ্ডলের কেন্দ্রে আরেকটি মণ্ডল আছে’

‘পৃথিবীর কেন্দ্রমণ্ডলের কেন্দ্রে আরেকটি মণ্ডল আছে’
Published: 2015-02-10 15:48:52 BdST
bdnews24 news image
পৃথিবীর কেন্দ্রমণ্ডলের ভিতরের অংশে কী আছে তা উদঘাটনে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবী করেছেন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা।
মঙ্গলবার বিবিসি জানিয়েছে, দেশ দুটির এই গবেষকরা বলেছেন, আমাদের গ্রহের সবচেয়ে কেন্দ্রীয় অঞ্চলের আরেকটি কেন্দ্রীয় অংশ আছে, কেন্দ্রমণ্ডলের ভিতরে আছে আরেকটি সুনির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় অঞ্চল।
বিজ্ঞানীদলের ধারণা, ওই সুনির্দিষ্ট কেন্দ্রীয় অঞ্চলের লৌহ ক্রিষ্টালগুলো কেন্দ্রমণ্ডলের বাইরের দিকে থাকা লৌহ ক্রিস্টালগুলো থেকে আলাদারকমের।
সম্প্রতি নেচার জিওসায়েন্সে তাদের এসব আবিষ্কারের প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে।
পৃথিবীর পৃষ্ঠ খুড়ে ‘হৃদয়’ অবধি যেতে সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যেই থাকতে হবে। তা না হওয়া পর্যন্ত বিজ্ঞানীদের ভূমিকম্পের মাধ্যমে সৃষ্ট প্রতিধ্বনি বিশ্লেষণ করেই কেন্দ্রমণ্ডল সম্পর্কে ধারণা করতে হবে।
আমাদের গ্রহ অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করার সময় ভূমিকম্পের ঢেউগুলোতে ঘটা পরির্বতন বিশ্লেষণ করে ওই স্তরগুলো সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শিয়াওডং সং বলেছেন, “ঢেউগুলো পৃথিবীর অভ্যন্তরের একপাশে বাড়ি খেয়ে অন্যপাশে যায়, আবার ওই পাশে বাড়ি খেয়ে অন্যপাশে যায়, এভাবে চলতে থাকে।”
12.Earth.jpgঅধ্যাপক সং ও তার চীনে থাকা সহকর্মীরা জানিয়েছেন, এসব ঢেউগুলো বিশ্লেষণ করে পাওয়া তথ্যগুলো থেকে এই ধারণা পাওয়া যায়, প্রায় চাঁদের সমান পৃথিবীর কেন্দ্রমণ্ডলটি দুটি অংশ নিয়ে গঠিত।
ভূমিকম্পের ঢেউ থেকে পাওয়া তথ্য ধারণা দিয়েছে, “কেন্দ্রমণ্ডলের কেন্দ্রীয় মণ্ডলটির” ক্রিস্টালগুলো পূর্ব-পশ্চিম মুখি সজ্জায় থেকে কিনারাগুলোতে কিছুটা বেঁকে আছে, উত্তর মেরুর উপর থেকে পৃথিবীর ভিতরের দিকে তাকানো সম্ভব হলে এমনটি দেখা যাবে।
অপরদিকে “কেন্দ্রমণ্ডলের বাইরের মণ্ডলটিতে” ক্রিস্টালগুলো উত্তর-দক্ষিণ মুখে সজ্জিত হয়ে আছে, ওই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে পৃথিবীর ভিতরে দিকে তাকালে দেখা যাবে।
অধ্যাপক সং বলেছেন, “কেন্দ্রমণ্ডলের আলাদা আলাদা জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন গঠন আবিষ্কার আমাদের পৃথিবীর দীর্ঘ ইতিহাসের বিষয়ের কিছু আজানা অংশ উদঘাটন করতে পারে।”
পৃথিবীর পৃষ্ঠ থেকে ৫,০০০ কিমি গভীরে কেন্দ্রমণ্ডল শুরু হয়েছে। একশ কোটি বছর আগে এই কেন্দ্রমণ্ডলটি আকার পেতে শুরু করে। প্রতি বছর সবচেয়ে ভারী ধাতু দিয়ে গড়া এই মণ্ডলটির আয়তন দশমিক ৫ মিমি করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

কোয়ান্টাম ও তরঙ্গ – ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী



১০ নভেম্বর বিশ্ব বিজ্ঞান দিবসে এক বৈঠকে পড়ে শেষ করে ফেললাম ‘ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী’র বই “কোয়ান্টাম ও তরঙ্গ”। আকৃতিতে ছোট সাইজের এই বইটি একটি ট্রেন ভ্রমণেই শেষ হয়ে গেল। ‘কোয়ান্টাম ও তরঙ্গ’ নামের বইটি হচ্ছে সলিড স্টেট সিরিজের দ্বিতীয় বই। আগের বইটির চেয়ে এই বইটি অনেক সাবলীলে পড়ে শেষ করতে পেরেছি। আগের বইটি আর এই বইটি ধাঁচের দিক থেকে একই, কিন্তু তারপরেও এই বইটিকে আমি উপরে রাখবো। তার কারণ মনে হয় প্রথম বইটি পড়ার সময় ধরে নিয়েছিলাম এটি পপুলার সায়েন্স জাতীয় বই। কিন্তু আদতে এটি কিছুটা টেক্সট, কিছুটা পপুলার ধাঁচের বই। বলা যায় ‘সেমি-টেক্সট’ বই। মানসিক ব্যাপার স্যাপার অনেক বড় জিনিস। মানসিক ব্যাপার স্যাপারের কারণে একই বই একজনের কাছে অমৃতের মত লাগে আরেকজনের কাছে কঠিন লাগে। কোয়ান্টাম ও তরঙ্গ পড়ার সময় আমি ধরেই নিয়েছিলাম এটি সেমি-টেক্সট জাতীয় বই, তাই পড়েও আরাম পেয়েছি বেশ।
বইটির আলোচনার প্রধান বিষয় কোয়ান্টাম মেকানিক্স। ৬৮ পৃষ্ঠার এই বইটিতে চারটি অধ্যায়ের মাধ্যমে কোয়ান্টাম মেকানিক্স তথা ক্ষুদ্র জগতের ধারণা দেয়া হয়েছে। বলে নেয়া ভাল এটা কোনো আকর গ্রন্থ নয়। পড়ে আমার কাছে যেটা মনে হয়েছে বস্তুর পরিবহণ তথা বৈদ্যুতিক গুনাগুণ সম্বন্ধে আগ্রহী পাঠকদের একটা প্রাথমিক ধারণা তৈরি করতে পারে এই বই। পরিবহণ ও কোয়ান্টাম মেকানিক্সে আগ্রহী হলে এই বিষয়ের উচ্চতর বই পড়ার সোপান হিসেবে কাজ করবে এটি।
cover
 ছোট বইটিকে মোট তিনটি অংশে ভাগ করা যেতে পারে। মূল বই তথা মূল প্রবন্ধ, নোট এবং পরিশিষ্ট।
মূল প্রবন্ধগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের উপযুক্ত ভাষায় কোয়ান্টাম মেকানিক্স তথা কঠিন পদার্থের গুণাবলী আলোচনা করা হয়েছে। মূল লেখার সাথে প্রাসঙ্গিক কিছু আলোচনা যেগুলোয় কিছুটা জটিলতা আছে সেগুলোকে আলাদাভাবে ‘নোটস’ অংশে আলোচনা করা হয়েছে। মূলত প্রবন্ধগুলো পড়ার সময় কেও আগ্রহী হয়ে সামান্য একটু বেশি জানতে চাইলে তার জন্য এই অংশটা কাজে দিবে। ‘নোট’ অংশটা সমীকরণ আশ্রয়ী
আর পরিশিষ্ট অংশটা এর থেকেও সামান্য একটু উঁচু স্তরের আলোচনা। এই অংশটা মূলত গণিত আশ্রয়ী। গণিতের ব্যাপারটার অবশ্য প্রয়োজনীয়তা আছে। বইয়ের ভূমিকাতেই লেখক বলেছেন “…দুঃখের বিষয় খুব সহজ বাংলায় কোয়ান্টাম মেকানিক্সের চমকপ্রদ বিশ্লেষণ সম্ভব নয়। কারণ এটা অত্যন্ত গণিতাশ্রয়ী।”
এই যে বলা হয়েছে গণিতাশ্রয়ী সেই গণিতেরই কিছুটা আভাস দেয়া হয়েছে এই পরিশিষ্ট অংশে। মূল লেখাগুলো পড়ার পর যারা গণিতের মাধ্যমে ব্যাপারটার আরও গভীরে প্রবেশ করতে চাইবে তাদের জন্য এই অংশটা কাজের হবে।
মূল অংশে চারটি প্রবন্ধ বা অধ্যায় রয়েছে। তাদের শিরোনামগুলো লক্ষ্য করি-
  • কণা, কোয়ান্টাম ও তরঙ্গ
  • কোয়ান্টাম মেকানিক্স
  • ব্যান্ড স্ট্রাকচার
  • বিদ্যুতের পরিবহণ
প্রথম অধ্যায়ে ব্যতিচার ও ওয়েভ ফাংশন নিয়ে কিছু কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি কোয়ান্টাম মেকানিক্স তথা বস্তুর ক্ষুদ্র জগতের গুণাবলী সম্বন্ধে কেন জানা জরুরি তা বলা হয়েছে। “কঠিন বস্তুর প্রয়োগে নতুন ও কার্যকর ডিভাইস নির্মাণে কোয়ান্টাম বলবিদ্যার খুঁটিনাটি জানা অত্যাবশ্যক। সত্যি বলতে কি, কোয়ান্টাম মেকানিক্স না এলে কঠিন বস্তুর পদার্থবিজ্ঞান (সলিড স্টেট ফিজিক্স) সম্ভব হতো না, সলিড স্টেট ফিজিক্স না থাকলে ট্রানজিস্টর সম্ভব হতো না, ট্রানজিস্টর এবং আইসি বিপ্লব না এলে আজকের তথ্যপ্রযুক্তি এবং আইসিটির যুগ তো সুদূর পরাহত।” (পৃষ্ঠা: ১১)
এই বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়টা গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যায়ের নামই কোয়ান্টাম মেকানিক্স। অতিক্ষুদ্র জগতে ক্ষুদ্র কণিকাগুলো আমাদের বস্তুজগতের নিয়ম না মেনে কেন যুক্তিহীন আচরণ করে তার কিছুটা আলোকপাত দেখা যাবে এখানে। কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা তথা সমগ্র পদার্থবিদ্যায় বোর, হাইজেনবার্গ, ব্রগলি, শ্রোডিঙ্গারের অবদানগুলো এখানে ওঠে এসেছে। পদার্থবিজ্ঞানের সবচে সুন্দর সমীকরণ ‘শ্রোডিঙ্গার ইকুয়েশন’টির আলোচনা এখানেই শুরু হয়েছে। আর সবচে ব্যতিক্রমী বিজ্ঞানী পল ডিরাকের অবদানের কথা তো রয়েছেই।
ব্যান্ড তত্ত্বের খুঁটিনাটি আলোচনা করা হয়েছে তৃতীয় অধ্যায়ে। যে তত্ত্ব কঠিন পদার্থের গুণাবলী অনেক সফলভাবে ব্যাখ্যা করে। ইলেকট্রনের শক্তিস্তর, সেই প্রেক্ষিতে পরিবহণ, পরিবাহিতা আলোচিত হয়েছে। পরিবহণের ক্ষেত্রে তাপের গভীর সম্পর্কের ব্যাপারটাও এখানেই বলা হয়েছে। তৃতীয় অধ্যায় শেষে ঐ আলোচনার পর যে আলোচনা প্রত্যাশিতভাবে চলে আসে তাই আলোচনা করা হয়েছে চতুর্থ অধ্যায় ‘বিদ্যুতের পরিবহণ’ অংশে। এটাও গুরুত্বপূর্ণ একটা অধ্যায়।
এবার কিছু সমালোচনা। বইটিতে যে চিত্রগুলো ব্যবহার করা হয়েছে তাদের প্রায়গুলোই ফালতু মানের হয়েছে। আর বেশিরভাগ চিত্রের ক্ষেত্রে বড়সড় যে সমস্যাটা রয়ে গেছে তা হল চিত্রগুলো ইংরেজিতে রেখে দেয়া হয়েছে। একে তো ইংরেজি তার উপর ইংরেজি লেখাগুলো পড়তে গেলে মাইক্রোস্কোপ নিয়ে বসতে হয়। অতিছোট হবার কারণে ইংরেজি লেখাগুলো পড়া যায়না। আর এমনিতে ইংরেজি চিত্র বাংলা করে ফেলা খুব একটা কঠিন কিছু না। প্রকাশের আগে সামান্য একটু সময় হাতে রাখলেই সেগুলোকে বাংলা করে ফেলা যায়। এই অংশটায় দায়িত্বের ঘাটতির পরিচয় পাওয়া যায়। তারপর মূল প্রচ্ছদপটে বইয়ের নাম লেখা আছে “কোয়ান্টাম ও তরঙ্গ” এবং একইসাথে বাধাইয়ের সরু অংশে নাম লেখা আছে “কণা ও কোয়ান্টাম”। কীভাবে কি?
এমন ভুল হলে চলে? ৩২ পৃষ্ঠার বারো নম্বর লাইনে গড়বড় হয়ে গেছে সংখ্যা ও লেখা। এক ইনভার্সের স্থলে ধনাত্মক সূচক চলে এসেছে। আর কিছু বানানে সমস্যা রয়েছে। অবশ্য একটা বই পড়ার সময় এরকম কিছু হতেই পারে। ছোটখাটো ত্রুটি থাকবেই, এগুলো মানিয়ে নেয়া যায়। কিন্তু চিত্র আর নামের সমস্যা বিশাল সমস্যা। এগুলো কোনোভাবেই স্কিপ করা যায়না।
পরিশেষে একটি কথা। কোয়ান্টাম মেকানিক্স নিয়ে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালও একটা বই লিখেছিলেন। আমি সেটা পড়েছিলাম। সে বইটা একদমই সাদামাটা, ঐ বইটা পড়া থাকলে শীঘ্রই এই বইটা পড়ে ফেলা উচিৎ সবার। জাফর ইকবালের বইটা একটা বিশেষ বয়সের পাঠকের কথা বিবেচনা করে লেখা। সেদিক থেকে ঐ বইটি অনেকটা সফল। কিন্তু একটু সিরিয়াস হতে গেলে ঐ গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এর জন্য কিছুটা সাহায্য করতে পারে “কোয়ান্টাম ও তরঙ্গ” নামের বইটি।
বইটি ‘সলিড স্টেট সিরিজে’র দ্বিতীয় বই। পরবর্তী তৃতীয় বইয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি করে এটি শেষ হল। এর পরের সিরিজ “অর্ধপরিবাহীর কথা” প্রকাশিত হবে ২০১৫ বইমেলায়। বইটির অপেক্ষায় রইলাম।


_____________________________________________________________________
_____________________________________________________________________
নাম: কোয়ান্টাম ও তরঙ্গ  || লেখক : ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী  ||  প্রকাশক : শুদ্ধস্বর || প্রকাশকাল :February 2014
ISBN : 9789849030430
Hard Cover
Page : 68

“সাপের মাথার মনি” – জ্যোতিষীদের প্রতারনা এবং এর পিছনের গুপ্ত বৈজ্ঞানিক কৌশল

“জ্যোতিষ রাজ ‘অমুক’ এর কাছে আছে সাত রাজার ধন সাপের মাথার মনি, যা পিতলের আংটি তে ব্যাবহার করে আঙ্গুলে পরলে বিপদ দূর হয় / ব্যবসায় সাফল্য আসে / দাম্পত্য জীবন সুখের হয় এবং সকল সমস্যার সমাধান হয়” – এরকম অনেক বিজ্ঞাপন অনেক কথা আমরা শুনে থাকি।
বর্তমানে শিক্ষার হার বাড়ার সাথে সাথে এ বিষয়ে সচেতনতাও বেড়েছে। আমরা ধরেই নিতে পারি অজ-পাড়াগা থেকে আসা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত নন এমন মানুষেরাই এ ধরনের কথায় কান দেন।
কিন্তু বসুন্ধরা সিটি’র মত অত্যাধুনিক শপিং কমপ্লেক্সের লিফটে যখন দেখা যায় এমন বিজ্ঞাপন যার অবস্থান খোদ সেখানেই তখন আরেকবার চিন্তা করতে হয় শুধু অশিক্ষিত-অসচেতন মানুষেরাই কি এই প্রতারনার ফাদে পা দিচ্ছে নাকি সেই ফাদে আটকা পড়ছে “শিক্ষিত সচেতন” মানুষেরাও।
এমন অভিজাত স্থানে অবস্থান নেয়া জ্যোতিষদের কাছে যাচ্ছে তারাই, যাদের অঢেল সম্পত্তি আছে এবং দেখা যায় এক-একটি আংটি বা পাথরের জন্য খদ্দের রা দিয়ে আসছে সেখানে হাজার থেকে শুরু করে লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এদের মধ্যে এক দল আছে যারা অশিক্ষিত ধনী তারা অনেকটা সেই অজ-পাড়া গাঁ এর লোকদের মতই ফাদে পা দিচ্ছে, আরেকদল সংশয় প্রকাশকারী। অনেক শিক্ষিত ব্যাক্তি ও অনেক সময় “দেখি ব্যাপার টা কি” এই মনোভাবে সেখানে যাচ্ছে এবং তাদের একটা কুট-কৌশলে ধরা পরে যথেষ্ট শিক্ষিত ও কুসংস্কারমুক্ত হবার পরও ভেবে নিচ্ছে তাদের এই “জ্যোতিষ বিদ্যা” আসলেই অনেক বড় কিছু।
একাজে এই “জ্যোতিষ রাজ” রা নিচ্ছে কিছু কৌশলের আশ্রয় এবং তাতে বোকা বনে গিয়ে অনেকেই লাখ-লাখ টাকা খুইয়ে মানষিক প্রশান্তি নিয়ে ফিরে আসছেন। এটা শুধু অভিজাত না সকল জ্যোতিষী ই এইরকম কিছু কৌশলের আশ্রয় নেয়।
তাদের এই কৌশলের অন্যতম একটা হল “সাপের মাথার মনি”। অনেকে এই নামেই ঢালেন অর্থ-বিত্ত। তারা যত শিক্ষিতই হোক মানষিক অবস্থা অশিক্ষিতের থেকে খুব একটা উন্নত নয়। আর অনেকে ব্যাপারটা পরীক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়েন কৌশলের ফাদে।
কৌশল টা কী?যদি কখনো আপনি তাদের সত্যতার প্রমান দেখতে চান তার দেখাবে। তার আপনার সামনে একটি জীবন্ত সাপ নিয়ে আসবে। আপনি নিজ হাতে কাটবেন সাপটির মাথা। সাথে সাথে মাথার ভেতর থেকে বেড়িয়ে আসবে লাল/নীল/কাল একটি চকচকে পাথর বা মনি।
আসলে এরকম একটা ঘটনা চোখের সামনে ঘটার পর আপনি যত শিক্ষিতই হোন না কেন এর পেছনের বিজ্ঞান ও কৌশল টা যদি জানা না থাকে তবে “সাপের মাথার মনি” র অস্তিত্ব আর বিশেষ ক্ষমতার ব্যাপারটা আসলে অস্বীকার করাটা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।
এর পেছনের কৌশল জানার জন্য আগে জেনে নিন এই “সাপের মাথার মনি” জিনিশ টা কী?
মুলত সাপের মাথায় কোন পাথর/মনি প্রাকৃতিক ভাবে থাকে না বা তৈরী হয় না। সাপের বিষ একটি বিষ গ্রন্থিতে তৈরী হয় এবং গ্রন্থি থেকে বিষ দতে প্রবাহিত হয়। কখনো কখনো বিষ দাতের মধ্য দিয়ে বেড়িয়ে আসতে পারে না। তখন এই বিষ জমা হয়ে কঠিন আকার ধারন করে। এটাকেই বলা হয় “সাপের মাথার মনি”। এই ঘটনাটি প্রকৃতিতে খুবই দূর্লভ। তবে এই জন্য এটি কখনোই কোন ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী নয় এমনকি আপনার ভাগ্য নির্ধারনের কোন ক্ষমতাই এর নেই। আর এটি আংটিতে ব্যাবহার করার মত কোন কঠিন পাথরের মত ও হয় না। তরল বিষ কঠিন অবস্থা প্রাপ্ত হয়ে একটা irregular অবয়ব তৈরী করে মাত্র। অথচ সর্প-মনি বিশারদ রা আপনাকে সাপের মাথা থেকে এনে দেবে সুন্দর আকৃতির একটি রঙ্গিন পাথর।
এখন দেখুন কিভাবে তারা সাপের মাথা থেকে আপনার সামনে নিয়ে আসে একটি সুদৃশ পাথর বা মনি।
সাপ এক প্রকার সরীসৃপ। এর দেহে, দেহ থেকে সম্পূর্ন আলাদা তুলনামুলক ভাবে পুরু ও ফ্লেক্সিবল একটি খোলস থাকে। এই খোলস সাপের দেহকে বাইরের আঘাত থেকে রক্ষা করে। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের যখন সাপের দেহের বৃদ্ধি ঘটে তখন সাপ তার খোলস পরিবর্তন করে। বৃদ্ধি শেষে তার দেহে এমন আরেকটি পুরু ও ফ্লেক্সিবল খোলস তৈরী হয়ে যায়। আমরা সাপের বাইরে এই খোলস টিকেই দেখি। যাদের গ্রামে ভ্রমনের অভ্যাস আছে তারা হয়ত এরকম সাপের খোলস পরে থাকতে দেখে থাকতে পারেন। এই খোলস টি ভেতরের সাপের দেহের সাথে চামড়ার মত লাগানো থাকে না। অনেকটা চিংড়ি ও কাকড়ার খোলসের মত ফাপা অবস্থায় এই খোলসের ভেতর সাপের মূল দেহ থাকে। আপনি চাইলে সাপের এই খোলসের এক প্রান্ত একটু কেটে টান দিলে ভেতরের পুরো সাপটি কে খোলস থেকে বের করে আনতে পারবেন। সাপের এই বৈশিষ্ট টিই ব্যবহার করে সাপের মাথার মনি দেখান হয়ে থাকে।
এই সর্প-মনি বিশারদ রা প্রথমে একটি সাপের ব্যবস্থা করে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিষহীন সাপ এই কাজে ব্যবহার করে। তারপর তারা সাপের লেজের দিকে অল্প একটু কেটে সেখানে একটি রঙ্গিন পাথর প্রবেশ করায়। তাহলে পাথর টি থাকে সাপের পাতলা চামড়ার বাইরে এবং শক্ত খোলসের নিচে। তারপর এটিকে রাবারের টিউবের মত চেপে চেপে লেজের দিক থেকে পাথর টাকে সাপের মাথায় নিয়ে আসা হয়। এই সম্পুর্ন কাজটি ঘটে আপনার অগোচরে। এর পর তারা পূর্বে প্রস্তুতকৃত সাপটি কে নিয়ে আসে আপনার সামনে। আপনার লক্ষ্য থাকে সাপের মাথায়, লেজে নয়। তারপর আপনি যখন সাপটির মাথাটা কাটেন তখন বেরিয়ে আসে সেই আগে থেকে প্রস্তুত পাথর টি। যেটিকে সাপের মাথার মনি বলে চালিয়ে দেয়া হয়, এবং হাতিয়ে নেয়া হয় মোটা অংকের টাকা।
এই গুপ্ত বৈজ্ঞানিক কৌশল টা যদি আপনার জানা না থাকে তাহলে আপনার বিশ্বাস করে নেয়া টা অস্বাভাবিক না যে সাপের মাথায় মনি থাকে, সেটা খুব দামী ও ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী।
এমন বিভিন্ন কৌশল এর সাহায্যেই জ্যোতিষ রা ধোকা দিয়ে যাচ্ছে মানুষদের।

বিগ ব্যাং থেকে বর্তমান মানব সভ্যতা এক নজরে – প্রথম পর্ব

‘বিগ ব্যাং’, মহাবিশ্বের সূচনা, মহাবিশ্বের সব কিছুর উৎপত্তি। সকল পদার্থ ও শক্তির সৃষ্টি।
আজ থেকে প্রায় ১৪০০ কোটি বছর আগে পরমানুর চেয়েও বহুগুন ক্ষুদ্র প্রায় শুন্য (V\rightarrow 0) আয়তনে ঘটা একটি বিস্ফোরনের মধ্য দিয়ে এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি।
‘বিগ ব্যাং’ এর পর সময়ের পরিক্রমায় ধাপে ধাপে এই মহাবিশ্ব বর্তমান অবস্থায় আসে। গ্রহ, নক্ষত্র, গ্যালাক্সি সব কিছুর শুরু ‘বিগ ব্যাং’।
সল্প পরিসরে দেখা যাক ‘বিগ ব্যাং’ এর পর কি কি ধাপ পার হয়ে আমাদের পৃথিবী, পৃথিবীতে ‘প্রথম প্রান’ এবং প্রানের বিকাশের ধারায় বর্তমান মানব সভ্যতা।
প্রথম পর্বে ‘বিগ ব্যাং’ এর পর পর্যায়ক্রমে পৃথিবীর সৃষ্টি এবং পৃথিবীতে ‘প্রথম প্রান’ সৃষ্টির উপযুক্ত পরিবেশ গঠিত হবার সময় পর্যন্ত একটি ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হল।
  • বর্তমান সময় হতে প্রায় ১৪০০ কোটি বছর আগে বৃহৎ বিস্ফোরন সংগঠন। তাপমাত্রা প্রায় 10^{27} ডিগ্রী সেঃ।
  • বিগ ব্যাং এর পর ১ সেকেন্ড সময়ের মাঝে প্রায় শূন্য আয়তনের মহাবিশ্ব ছড়িয়ে পরে গ্যালাক্সির চেয়েও বড় এলাকায়। পদার্থ-প্রতিপদার্থ, কোয়ার্ক-প্রতিকোয়ার্ক একে অপরকে ধ্বংস করে শুধু শক্তি হয়ে বিরাজ করে। বাকিরা প্রোটন ও নিউট্রন সৃষ্টি করে। তাপমাত্রা কমে প্রায় 10^{12} ডিগ্রী সেঃ।
  • ইলেক্ট্রন পজিট্রন কে ধ্বংস করে। তাপমাত্রা আরো কমে প্রায় ৩০০ কোটি ডিগ্রী সেঃ হয় দশ সেকেন্ডের মধ্যে।
  • পরমানু গঠনের তিন মৌলিক কনা ইলেক্ট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন প্রস্তুত হতে সময় নেয় বিগ ব্যং এর পর তিন মিনিট।
    এর পর এভাবে সময় বয়ে চলে। মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হতে থাকে। মহাশুন্যে ভেসে বেড়ায় ইলেক্ট্রন, প্রোটন আর নিউট্রনের দল বিচ্ছিন্ন ভাবে।
  • প্রোটনকে কেন্দ্র করে প্রথম ইলেক্ট্রন ঘুর্নন শুরু করে বিগ ব্যাং এর প্রায় ৩ লক্ষ বছর পর। তৈরী হয় মহাবিশ্বের প্রথম পরমানু, হাইড্রোজেন পরমানু। এভাবে তৈরী হয় অসংখ্য বিচ্ছিন্ন হাইড্রোজেন পরমানু। যা বর্তমান কালের সকল বস্তুর, সকল পরমানুর আদি অবস্থা।
  • এ সময় থেকেই শুরু হয় মহাবিশ্ব গঠনে মহাকর্ষের প্রধান ভূমিকা। হাইড্রোজেন পরমানু মহাবিশ্বের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে মহাকর্ষের প্রভাবে কাছাকাছি আসা শুরু করে। গঠিত হয় গ্যালাক্সি। বিগ ব্যাং এর পর প্রায় ৩০ কোটি বছর থেকে ৫০ কোটি বছর পর্যন্ত চলতে থাকে বিভিন্ন স্থানে গ্যালাক্সির জন্ম ও পূর্নতা প্রাপ্তির পথে এগিয়ে যাবার সূচনা।
    এসব গ্যালক্সির অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে কাছাকাছি থাকা হাইড্রোজেন মহাকর্ষের প্রভাবে আরো কাছাকাছি এসে একটি কেন্দ্রের দিকে এগুতে শুরু করে। তাদের পারষ্পারিক ঘর্ষনে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। সেই সাথে বাড়তে থাকে চাপ এবং বাড়ে সামগ্রিক মহাকর্ষ বল যা আশেপাশের হাইড্রোজেনকে আকর্ষন করে কাছ নিয়ে আসে আরো বেশি পরিমানে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে ১ কোটি ৮০ লক্ষ ডিগ্রী ফারেনহাইট হলে হাইড্রোজেন নিউক্লিয়াস মিলে গঠিত হতে থাকে ভারী মৌল হিলিয়াম। সেই সাথে ফিউশনের জন্য বিকিরিত হয় শক্তি। এভাবেই তৈরী হয় মহাবিশ্বের প্রথম নক্ষত্র। একই প্রক্রিয়ায় তৈরী হয় মহাবিশ্বের সকল নক্ষত্র। আমাদের সৌরজগতের সূর্যও এমনই একটি নক্ষত্র।
    এখানে তৈরী হল প্রাথমিক ও হাল্কা দুটি মৌল হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম। কিন্তু আমাদের পৃথিবীতেই আছে আরো শতাধিক তুলনামূলক ভারী মৌল। সেগুলোও তৈরী হয় নক্ষত্রেই। নক্ষত্রের আকারের উপর নির্ভর করে তুলনামুলক ভারী নক্ষত্র গুলোতে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে আর সেই সাথে সকল হাইড্রোজেন ফিউশনিত হয় হিলিয়াম হবার পরেও ফিউশন প্রক্রিয়া চলতে থাকে। ভারী থেকে অতি-ভারী নক্ষত্রে একই ফিউশন প্রক্রিয়ায় তৈরী হয় হিলিয়াম থেকে যথাক্রমে, কার্বন, নাইট্রোজেন, অক্সিজেন, ম্যাগনেসিয়াম এবং সবশেষে লোহা। নক্ষত্রের সকল পরমানু লোহাতে পরিনত হবার পর আর ফিউশন চলতে পারে না। তখন মৃত্যু ঘটে একটি নক্ষত্রের। ছোট নক্ষত্রে এই মৃত্যু শান্ত হলেও মাঝারী ও বৃহদাকার নক্ষত্রে তারাদের ফিউশন শেষে এরা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় বিশাল এক বিস্ফোরনের মধ্য দিয়ে। আর এই বিস্ফোরনের মাধ্যমেই তৈরী হয় কপার, সীসা এবং ইউরেনিয়ামের মত ভারী মৌল।
  • আজ থেকে প্রায় ১০০০ কোটি বছর পূর্বে সৃষ্টি হয় মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি। যার অধিবাসী আমরা। এই গ্যালাক্সিতে বারবার নক্ষত্রের জন্ম, মৃত্যু ও বিস্ফোরনের মাধ্যমে সৃষ্ট ভারী মৌল ও প্রয়োজনীয় হাল্কা হাইড্রোজেন একত্রীত হয় এই সর্পিলাকার গ্যালাক্সির পরিধির কাছাকাছি বর্তমান সৌরজগতের স্থানে।
  • বর্তমান সময় থেকে প্রায় ৪৫৬ কোটি বছর আগে এই একত্রীত ধুলোর মেঘ তার কেন্দ্রে তৈরী করে একটি নতুন নক্ষত্র। যাকে আমরা বলছি ‘সূর্য’। সৌরজগতের প্রান কেন্দ্র।
  • এই সৌরজগতের মোট পদার্থের ৯৯.৯% পদার্থ নিয়েই গঠিত হয় সূর্য। তারপরেও তার আশেপাশে থাকে গ্রহ উপগ্রহ তৈরীর জন্য পর্যাপ্ত পদার্থ। যেগুলো সময়ের সাথে মহাকর্ষের টানে কাছাকাছি এসে একত্রীত হয়ে গ্রহের আকার ধারন করে সূর্যের চারপাশে ঘুরতে থাকে এবং তৈরী করে সৌরজগত। এই গ্রহগুলোর একটি আমাদের পৃথিবী।
  • আজ থেকে ৪৫৪ কোটি বছর পূর্বে পৃথিবী গ্রহের আকার ধারন করে যার ভর ছিল বর্তমান ভরের ৮০% । এ অবস্থায় পৃথিবী ছিল সম্পূর্ন অর্ধ-তরল গলিত লাভার একটি গোলাকার খন্ড। তখন পৃথিবীর ঘুর্নন ছিল বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি। তখন পৃথিবীর নিজ অক্ষের উপর একবার ঘুরতে সময় লাগত মাত্র ৬ ঘন্টা।
    দিন অতিবাহিত হতে থাকল পৃথিবী সূর্যের চারদিকে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথ নির্ধারন করে নিল। গলিত পৃথিবী ঠান্ডা হতে থাকল। হালকা পদার্থ তরলের উপরে উঠে এসে ভূপৃষ্ঠের আবরনের তৈরী করতে থাকল আর ভারী পদার্থ ডুবে গিয়ে পৃথিবীর কেন্দ্রে ভারী লোহা ও নিকেলের মিশ্রিত একটি ‘কোর’ তৈরী করল। এই ধাতব কেন্দ্র থেকে একটি চৌম্বক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হল যা সূর্য থেকে ধেয়ে আশা আয়নিত কনা থেকে পৃথিবীর জীবজগৎকে এখনো রক্ষা করে চলে প্রতিনিয়ত। তখনো পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদ তৈরী হয়নি।
  • ৪৫৩ কোটি বছর পূর্বে প্রায় মঙ্গল গ্রহের সমান একটি বস্তুখন্ড ঘন্টায় প্রায় ২৫০০০ কিঃমিঃ বেগে এসে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে। এই সংঘর্ষের ফলে আগন্তুকের কিছু অংশ পৃথিবীতে থেকে যায় আর বাকি অংশ ছড়িয়ে পরে মহাকাশে। ছড়িয়ে পরা এই বস্তুর কিছু অংশ মহাকর্ষের টানে একত্রীত হয়ে পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরতে শুরু করে। সৃষ্টি হয় পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদ।
    চাঁদ সৃষ্টি হওয়া পৃথিবীর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ন একটি বিষয়। এই সংঘর্ষের ফলেই পৃথিবীর উলম্ব অক্ষ খানিকটা বেকে যায়। যার ফলে আজ আমরা পাচ্ছি ঋতুবৈচিত্র। যেটি প্রানের উদ্ভব ও জীবন ধারনের জন্য প্রয়োজনীয়। পৃথিবীর আহ্নিক গতি হ্রাস প্রাপ্ত হয়ে ৬ ঘন্টা থেকে ২৪ ঘন্টায় আসতে চাঁদের আকর্ষনের গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রয়েছে। এছাড়া বর্তমানেও পৃথিবীর জলবায়ুর উপর ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে চাঁদ। তার চাক্ষুস উদাহরন জোয়ার-ভাটা।
  • ৪৫০ কোটি বছর পূর্ব থেকে ৩৮০ কোটি বছর পূর্ব পর্যন্ত পৃথিবী প্রানের উদ্ভব ঘটার জন্য পর্যাপ্ত স্থিতিশীল অবস্থায় আসে। পৃথিবীর কক্ষপথ সুনির্দিষ্ট হয়, পৃথিবীর আহ্নিক গতি ও বার্ষিক গতি স্থিতিশীল হয়, পৃথিবীর চারদিকে চাঁদের গতি নির্দিষ্ট হারে এসে পৌছায়, চাঁদ অর্ধ-তরল লাভা থেকে ঠান্ডা হয়ে কঠিন অবস্থায় আসে।
  • ৪৫০ কোটি বছর পূর্বে, পৃথিবী কিছুটা শীতল হয়ে ভূপৃষ্ঠ কঠিন আকার ধারন করে। তবে তখনো ভূপৃষ্ঠে চলছে প্রচন্ড অগ্নুৎপাত। সেসময় পৃথিবীতে তাপমাত্রা এতই বেশি ছিল যে কোন তরল পানি ছিল না, ছিল ‘সুপারহিটেড স্টীম’।
    ধীরে ধীরে পৃথিবী ঠান্ডা হতে থাকে, জলীয়বাস্পের দরুন বৃষ্টিপাত হয়। প্রথমে খুবই অল্প পরিমানে ও পরে বেশি। ভুপৃষ্ঠ পানি তরল অবস্থায় থাকার মত তাপমাত্রায় আসে। বৃষ্টিপাতের ফলে সৃষ্টি হয় জলাধার এবং সমূদ্র।
  • আজ থেকে ৩৮০ কোটি বছর পূর্বে পৃথিবীতে সৃষ্টি হয় প্রথমবারের মত স্থায়ী সমুদ্র, যা ছিল প্রথম প্রানের উৎপত্তিস্থল ও আবাস।
প্রথম পর্বে মহাবিশ্বের উৎপত্তি থেকে পৃথিবীতে প্রান সঞ্চারের উপযুক্ত পরিবেশ গঠন পর্যন্ত সময়কে ক্ষুদ্র পরিসরে তুলে ধরা হল।
পরবর্তী দ্বিতীয় ও শেষ পর্বে পৃথিবীতে প্রথম প্রানের উদ্ভব, ক্রমবিকাশ ও বিবর্তনের ধারায় বর্তমান মানব সভ্যতা গঠন পর্যন্ত অতিক্রান্ত সময়ের গুরুত্বপূর্ন অংশ সমূহ থাকবে।
তথ্যসূত্রঃ-
১. “মহাকাশে কী ঘটছে” – আবদুল্লাহ আল-মুতী
২. www.history.com

শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

আমরা কেন স্বপ্ন দেখি?

স্বপ্নের স্নায়ুবিজ্ঞান
সম্প্রতি বেশ কিছু গবেষণায় ঘুমের সময় মানুষজনের মস্তিষ্কের বিভিন্নধর্মী সক্রিয়তা মাপা হয়েছে ব্রেন স্ক্যানার দিয়ে। স্বপ্নের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য মাথায় রেখে সেসব গবেষণার ফলাফল দেখে নেয়া যাক। গল্প বলা স্বপ্নেরা রেম ও গভীর নন-রেম দুই ধরনের ঘুমেই দেখা দিলেও রেম-ঘুমেই এসব স্বপ্নের প্রাদুর্ভাব বেশি। তাই রেম ঘুমের সময়ে মস্তিষ্কে কি কি শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন হয় তার বিশ্লেষণের মাধ্যমে গল্প বলা স্বপ্ন নিয়ে আলোচনা করবো আমরা।
প্রাণীদের উপর পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা থেকে আমরা জানি ব্রেনস্টেমে রেটিকুলার এক্টিভেটিং সিস্টেম রেম ঘুমের সময় সম্পূর্ণ সক্রিয় থাকে। এই সিস্টেমের সাথে সম্পর্কিত স্নায়ুদের সক্রিয়তা PET স্ক্যান করে দেখা সম্ভব। এই স্ক্যান থেকে পাওয়া ছবির একটা লক্ষ্যনীয় বৈশিষ্ট্য হলো স্বপ্নে গল্প বলা দৃশ্য দিয়ে ভরপুর হলেও প্রাথমিক দৃশ্য কর্টেক্সে তেমন কোন সক্রিয়তাই দেখা যায় না। কিন্তু দৃশ্যতথ্য নিয়ে উচ্চস্তরের বিশ্লেষন করে মস্তিষ্কের যেসব অঞ্চল (দৃশ্য তথ্য সম্পর্কিত স্মৃতি সঞ্চয় নিয়ে কাজ করে যারা) — তাদেরকে অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে উঠতে দেখা যায় এসব পেট-স্ক্যান ছবিতে। এ থেকে সম্ভবত বলা সম্ভব যে স্বপ্নেরা প্রায়ই কেন অতীতের বিচ্ছিন্ন স্মৃতি নিয়ে গড়ে ওঠে — বিশেষ করে সেসব দীর্ঘমেয়াদী দৃশ্য-স্মৃতি যারা মস্তিস্কের দৃশ্য-তথ্য বিশ্লেষণ সম্পর্কিত এলাকায় জমা থাকে।
রেম ঘুমের সময়ে মস্তিষ্কের আরেকটা লক্ষ্যনীয় বৈশিষ্ট্য হলো আবেগ নিয়ে কাজ করা এলাকাগুলোতেও বেশ সক্রিয়তা দেখা যায়। বিশেষ করে অ্যামিগডালা ও অ্যান্টেরিয়র সিঙ্গুলেট অঞ্চলগুলো প্রবলভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই অঞ্চলগুলো ভয়, উদ্বেগ, ব্যাথা সংশ্লিষ্ট আবেগীয় প্রতিক্রিয়া এবং ভয় কিংবা ব্যাথা সম্পর্কিত উদ্দীপনার সাথে জড়িত থাকতে দেখা যায়। গল্প-বলা-স্বপ্নে ভয়, উদ্বেগ ও আগ্রাসনের যে ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা যায় তার পেছনে এই দুইটি অঞ্চল দায়ী বলে মনে করা হয়। রেম ঘুমের সময় প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের কিছু অংশ (ডর্সোল্যাটারাল) একেবারেই নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। আমরা জানি প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স হচ্ছে মস্তিষ্কের সম্প্রতি বিবর্তিত অংশ। কর্টেক্সের নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া অঞ্চলটি যুক্তি, বিচার-বিবেচনাবোধ আর পরিকল্পনার মতো কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্বপ্নে কেন আমরা অযৌক্তিক, অদ্ভূতুড়ে আর অসম্ভব সব ঘটনা ও কাহিনী কেন মেনে নেই তার একটি ব্যাখ্যা হলো এই নিষ্ক্রিয়তা। এছাড়াও ডর্সোল্যাটারাল প্রিফন্ট্রাল কর্টেক্সের এরকম দুর্বল হয়ে যাওয়া স্বপ্নে হ্যালুসিনেশনের মতো উপাদান সংযুক্ত করতে ভালো ভূমিকা রাখে। বলে রাখা ভালো সাইজোফ্রেনিয়ায় (এক ধরনের মানসিক রোগ) হ্যালুসিনেশনের পেছনেও এই ডর্সোল্যাটারাল প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়। এ কারণে সাইজোফ্রিনিয়া ভুক্তভোগীরা জেগে থেকেও স্বপ্নের মতো অযৌক্তিক ঘটনার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যান।
PET-এর মাধ্যমে ব্রেন স্ক্যানিং মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের গড়পড়তা সক্রিয়তা সম্পর্কে তথ্য দেয়। এ তথ্য অনেক কাজের। কিন্তু ঠিক কোন সুনির্দিষ্ট জায়গায় কোন স্নায়ু সংকেত পাঠাচ্ছে কিংবা স্নায়ুসমুহের সক্রিয় হয়ে ওঠার ফলে সে অঞ্চলে সাময়িক কোন পরিবর্তন হচ্ছে তা এই স্ক্যানিঙের মাধ্যমে জানা যায় না। গল্প-বলা স্বপ্ন দেখার সময় মস্তিষ্কে বিভিন্ন তথ্য কিভাবে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে তা বোঝার জন্য এই দুইটি বিষয় জানা জরুরী। এক স্নায়ু থেকে অন্য স্নায়ুতে সংকেত পাঠানোর জন্য দুই স্নায়ুর সংযোগস্থলে নিউরোট্রান্সমিটার নামক উপাদান দরকার হয়। সিনাপ্সে নিউরোট্রান্সমিটার লেনদেনে দুই স্নায়ুর মাঝে বৈদ্যুতিক উদ্দীপনা পরিবহন নিয়ন্ত্রিত হয়। এই নিউরোট্রান্সমিটার কয়েক রকমের হয় – এসেটাইলকোলিন, নোরাড্রোলিন, সেরোটোনিন ইত্যাদি। প্রাণীদের উপর পরিচালিত কিছু গবেষণায় তড়িৎগ্রাহী বৈদ্যুতিক প্রোব মস্তিষ্কে বসিয়ে দিয়ে রেম ঘুমের সময় বিভিন্ন নিউরনের সক্রিয়তা দেখা হয়। এ গবেষণা থেকে দেখা যায় কোয়েরুলাস অঞ্চলের নোরাড্রোলিন ধারণকারী স্নায়ু ও ডর্সাল ড়্যাফে অঞ্চলের সেরোটোনিন ধারণকারী স্নায়ুরা এ সময় নিশ্চুপ হয়ে যায়। কিন্তু ব্রেনস্টেমে রেটিকুলার এক্টিভেটিং সিস্টেমের এসিটাইলকোলিন ধারণকারী স্নায়ুরা খুবই সক্রিয় হয়ে ওঠে। মস্তিষ্কের এই তিন নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার স্নায়ুসমূহের বিভিন্ন অ্যাক্সন থ্যালামাস, কর্টেক্স ও লিম্বিক সিস্টেম সহ সারা মস্তিষ্কেই ছড়িয়ে আছে। তার মানে পেট স্ক্যানে আমরা রেম ঘুমে মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলের স্থানিক সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় হয়ে ওঠা দেখেছি তা সংঘটিত হয় এসব তিন ব্যবস্থার মাধ্যমে।
এছাড়া এসেটাইলকোলিন নিউরোট্রান্সমিটারের পরিচালনা ঐচ্ছিক পেশীসমূহকে সাময়িকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে দেয়। আগেই জানিয়েছি যে এটা রেম ঘুমের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য। গল্প-বলা-স্বপ্নে মস্তিষ্ক দেহের নড়াচড়া করার বিভিন্ন নির্দেশ পাঠায়। কিন্তু এই নির্দেশ সুষুম্নাকান্ডে প্রবেশের আগেই ব্রেন স্টেমের এসিটাইলকোলিন পরিচালিত স্নায়ু বর্তনীর সংকেতের মাধ্যমে অবদমিত হয়। নড়াচড়ার জন্য মস্তিষ্ক থেকে যথাযথ নির্দেশ পাঠালেও সে নির্দেশ দেহে ছড়িয়ে পড়ছে না। একারণে নির্দেশ পাঠানোর পরেও সংশ্লিষ্ট পেশী ও অন্যান্য ইন্দ্রীয় কিভাবে নড়াচড়া হচ্ছে এধরনের কোন অনুভূতি ফেরত পাঠাচ্ছে না মস্তিষ্কে। তাই রেম ঘুমের গল্প-বলা-স্বপ্নে আকাশে ওড়া সহ অবিরাম আনায়সগতির অনুভবের পেছনে সম্ভবত এই অবদমন দায়ী।
স্বপ্নের সময় মস্তিষ্কের গহীন স্নায়ুবর্তনীসমুহে ঘটে যাওয়া সব খুঁটিনাটির খবরাখবর আমাদের জানা নেই। তবুও, স্বপ্ন দেখার সময় মস্তিষ্কের বিভিন্ন অঞ্চলে যেসব সক্রিয়তার ধাঁচ দেখা যায়, তা থেকে আমরা স্বপ্নের অনেক লক্ষ্যনীয় বৈশিষ্ট্যকে ব্যাখ্যা করতে পারি। স্বপ্ন আমরা কেন দেখি, স্বপ্ন দেখে জীববৈজ্ঞানিক কোন উদ্দেশ্য সাধিত হয় কিংবা স্বপ্নের বিষয়বস্তু কেন আমাদের কাছে এতো অর্থবহ বলে মনে হয় – উপরের ব্যাখ্যা দিয়ে এসব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নকে ঠিকমতো ধরা যায় না। তো, আমরা কেন স্বপ্ন দেখি? এক কথায় উত্তর হলো, দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা এখনো জানি না। কিন্তু যদি বড় উত্তর দিতে চাই তাহলে ভিন্ন কয়েকটি পথে ভিন্ন তদন্তের খবরাখবর জানাতে হবে।

কতিপয় স্বপ্নতত্ত্ব
”আমরা কেন স্বপ্ন দেখি” — ঘুম নিয়ে যাঁরা গবেষণা করেন তাদের কয়েকজনকে বিচ্ছিন্নভাবে যদি এই প্রশ্নটা করা যায় তাহলে গবেষকের আগ্রহের এলাকা অনুযায়ী আমরা ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাবো। তাই যেসব বিজ্ঞানীর মূল আগ্রহের জায়গা আবেগ তাঁরা আপনাকে বলবেন যে স্বপ্নের  মূল কাজ হলো মন-মেজাজকে নিয়ন্ত্রণ করা। যেমন শিকাগোর সেইন্ট লুক’স মেডিকেল সেন্টারের গবেষক রোজালিন্ড কার্টরাইট একটি তত্ত্ব খাড়া করেছেন যে স্বপ্ন মেজাজ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নেতিবাচক আবেগগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে। তাই ঘুম থেকে উঠে আমরা সাধারণত ভালো বোধ করি। অন্যদিক মনঃস্তত্ববিদেরা বলবেন স্বপ্ন হলো এক ধরনের মনঃচিকিৎসা। টাফ্টস বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্নেস্ট হার্টম্যান প্রস্তাব করেছেন স্বপ্ন আর মনঃচিকিৎসা দুইই জীবনের আপাত বিচ্ছিন্ন ঘটনাবলীর মধ্যে সংযোগ স্থাপনের কাজটি করে একটা নিরাপদ, বাইরের জগত থেকে পৃথক পরিবেশে।
যেসব জীববিজ্ঞানীর মূল আগ্রহ বিবর্তনে তারা প্রস্তাব করেছেন সময়ের সাথে সাথে স্বপ্নের ক্রমবিকাশ ঘটেছে। স্বপ্নে সেই সব আচরণকে নিখঁত করে তোলার মহড়া ঘটে যারা জেগে থাকার সময়ে টিকে থাকার জন্য  অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বপ্ন অনেকটা ভার্চুয়াল বাস্তবতার মতো কাজ করে যেখানে একটি নিরাপদ স্থানে (যেখানে প্রাণী ঘুমাচ্ছে) জীবনের উপর হুমকী তোলা বিভিন্ন পরিস্থিতির একটা ছদ্মঅনুকরণ করা হয়। এই ব্যাখ্যাটি হার্টম্যানের প্রস্তাবনা থেকে বেশি দূরে নয়। দুই ব্যাখ্যাই স্বপ্নে ভয় ও উদ্বেগের কেন্দ্রীয় ভূমিকার পেছনে কার্যকারণ খোঁজার চেষ্টা করছে। একই সাথে দুই ব্যাখাই ধরে নেয় স্বপ্ন হলো নিরাপদ একটা পরিবেশ যেখানে গুরুত্বপূর্ণ মানসিক কাজগুলো করে ফেলা যায়।
এর আগে মস্তিষ্কে স্মৃতি একীভবন (প্রাথমিকভাবে কোন তথ্য পাওয়ার পর তার বিভিন্ন অংশ মস্তিষ্কে ধরে রাখার প্রক্রিয়া) ও অন্যান্য স্মৃতির সাথে সংযুক্ত করার জন্য ঘুম চক্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা আলোচনা করেছি। তাই এখন আন্দাজ করতে কষ্ট হবে না স্বপ্নও কোন না কোন ভাবে স্মৃতির সাথে সম্পর্কিত। স্বপ্নের আলোচনায় একটা আগ্রহোদ্দীপক মোড় আসে যখন রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ের জোনাথন উইনসন ভাবনা উত্থাপন করেন যে স্বপ্ন আসলে ঘুমন্ত অবস্থায় স্মৃতি প্রক্রিয়াজাত করার একটি উপজাত মাত্র। তিনি যুক্তি দেখান, অভিজ্ঞতাকে স্মৃতিতে পরিণত করার জন্য মস্তিষ্কের যে সম্পদ ব্যবহার করা লাগবে তা যদি জাগ্রত অবস্থায় করা হয় তাহলে আমাদের কর্টেক্সের যে আয়তন তার চাইতে বেশি পরিমাণ সম্পদ ব্যবহার করা লাগবে। এ কাজটি জাগ্রত অবস্থায় করতে গেলে একটা অচলাবস্থার তৈরি হবে। তাই মস্তিষ্কের যে সীমাবদ্ধ সম্পদ আছে আমাদের তার উপযুক্ত ব্যবহার করার জন্য রাত্রে ঘুমের মধ্যে স্মৃতী একীভবন ও সংযুক্ত করার কাজটি করি। অনেকটা যুদ্ধকালীন সময়ে কোন অস্ত্র-কারখানায় রাত্রের শিফটে কাজ চলার মতো।
স্বপ্ন আমরা কেন দেখি তার ব্যাখ্যা দেয়া এইসব বিচিত্র মডেলের উপযোগীতা যাচাই করার সময় আমাদের কিছু কথা মাথায় রাখতে হবে। প্রথমত, এই মডেলগুলো যে একটি অপরটি থেকে স্বতন্ত্র এমন নয়। যেমন স্বপ্ন আবেগগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করার সাথে সাথে স্মৃতি একীভবনের কাজও করতে পারে। দ্বিতীয়ত, স্বপ্ন বিশ্লেষণের বিভিন্ন ধাপ সম্পর্কে আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। একটি ধাপে রয়েছে স্বপ্ন দেখার সময় মস্তিষ্কে চলতে থাকা বিভিন্ন প্রক্রিয়া। পরের ধাপে স্বপ্ন দেখার সময় যেসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে আমরা যাই আর শেষ ধাপে আছে স্বপ্ন দেখার মধ্যে স্বেচ্ছাসেবকদেরকে জাগিয়ে দিয়ে তাদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করার প্রক্রিয়া।
প্রতিটি মডেলেরই কিছু শক্তিশালী দিক ও দুর্বলতা আছে। স্বপ্নের মনঃচিকিৎসার ভূমিকা কিংবা মন-মেজাজের নিয়ন্ত্রনের তত্ত্ব স্বপ্নে নেতিবাচক আবেগের প্রাদুর্ভাবের ভালো ব্যাখ্যা দেয়। কিন্তু এই তত্ত্ব দুইটিকে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের ব্যাখ্যা দিতে হবে। প্রথমত, কিছু কিছু মানুষ আছে যারা কৃত্রিম ভাবে না জাগালে দাবী করেন যে তারা কোন স্বপ্ন দেখেন না। আর তাদের যে আবেগীয় কিংবা বৌদ্ধিক সমস্যা আছে এমনও নয়। এক্ষেত্রে কেউ হয়তো বলতে পারে যে স্বপ্নের কথা সচেতনভাবে স্মরণ করতে না পারলেও ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে ঠিকই আবেগীয় মনঃচিকিৎসার প্রক্রিয়া চলমান আছে। দ্বিতীয় পর্যবেক্ষণ হলো আবেগের দিক দিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাই কারো কারো স্বপ্নে দেখা দেয় না। অনেক নিয়মিত স্বপ্ন-ডাইরী লেখা স্বেচ্ছাসেবকের ক্ষেত্রে এই ঘটনাটি ঘটেছে। তবে কোন মনঃসমীক্ষক হয়তো বলবেন যে স্বপ্নে সেই সব আবেগ রূপকের ছদ্মবেশে দেখা দিয়েছে — তাই তাদেরকে চিহ্নিত করা এতো সহজ নয়।
স্বপ্নের স্মৃতি একীভবন/সংযুক্তিকরণ মডেলটিও নানা দিক দিয়ে আকর্ষণীয়। অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের সাথে স্বপ্নে কেন অনেক আগের স্মৃতি ঘুরে ফিরে চলে আসে তার ব্যাখ্যা দেয় মডেলটি। ব্যাখ্যাটি নতুন ঘটনার তথ্য পুরনো স্মৃতির সাথে সংযুক্ত হয়ে যাচ্ছে বলেই পুরনো দিনের কথা স্বপ্নে উঁকি দিচ্ছে। স্মৃতি একীভবন/সংযুক্তিকরণ মডেলের মধ্যেই কিছু ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা আছে যারা আলাদা গুরুত্বের দাবী রাখে। যেমন কোন কোন ব্যাখ্যায় দাবী করে যে মস্তিষ্কের স্মৃতি একীভবনের ক্ষেত্রে স্বপ্নই কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে। এ ধরণের ব্যাখ্যাকে অবশ্য উপরের মতো সমালোচনার মুখোমুখি হতে হবে। যেসব স্বেচ্ছাসেবীরা স্বপ্ন দেখেন না বলে দাবী করেন, তাদেরকে বিভিন্ন স্মৃতি-পরীক্ষায় ভালোভাবেই উন্নীত হতে দেখা যায়। হার্বার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালেন হবসন একীভবন/সংযুক্তিকরণ মডেলের একটি লঘু সংস্করণ প্রস্তাব করেছেন। তিনি বলেন যে ঘুম-চক্রের মূল উদ্দেশ্য হলো স্মৃতি একীভবন ও সংযুক্তিকরণ। আর গল্প-বলা-স্বপ্নে আমরা যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাই তা সম্মুখ কর্টেক্সের যৌক্তিক অংশের নিষ্ক্রিয় হয়ে গিয়ে  মস্তিষ্কের অতিআবেগী অংশ দৃশ্য-স্মৃতির বিভিন্ন ছেঁড়া অংশকে পরপর জোড়া লাগিয়ে একটি কাহিনীর রূপ দেয়। এই মত অনুসারে, স্বপ্নের উপাদান আসলে সার্কাসে মজার আয়নায় দেখা মোচড়ানো প্রতিবিম্ব ছাড়া কিছু নয়। তাই স্বপ্নের কোন রূপকের ফ্রয়েডিয় কিংবা অন্য কোন ব্যখ্যা দেওয়ারও প্রয়োজন নেই।
স্মৃতি একীভবন/সংযুক্তিকরণ মডেলে বেশ কিছু ঝামেলা রয়েছে। স্বপ্নের আবেগীয় উপাদানগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এত নেতিবাচক কেন তার কোন ব্যাখ্যা দেয় না এই মডেলটি। এ বিষয়ে ডেভিড লিনডেনের অনুমান হলো, জাগ্রত অবস্থায় নেতিবাচক আবেগীয় বর্তনীর (ভয়/উদ্বেগ/আক্রমণ) মাধ্যমে মস্তিষ্কে স্মৃতি একীভবনের কাজে জোড় দেয়। এটা যেন নেতিবাচক আবেগের সাথে জড়িয়ে মস্তিষ্কে স্মৃতি একীভবনের জন্য দাগ দিয়ে রাখা — কোন প্রবন্ধ পড়ার সময় তার গুরুত্বপূর্ণ লাইনকে যেমন করে আমরা দাগিয়ে রাখি, অনেকটা সেরকম। ভীষণ ভয় পেয়ে চমকে যাওয়া ঘটনা কিন্তু আমরা সহজে ভুলিনা। ঘুমানোর সময় যখন স্মৃতি একীভবন/সংযুক্তকরণের কাজ মস্তিষ্কে চলে, তখনো জাগ্রত অবস্থার মতোই একটা প্রক্রিয়ার দরকার যেটা বলে দেবে ”হুম। স্মৃতিকে দীর্ঘকালীন আবস্থায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তুমি এই স্নায়ু সংযোগ তৈরি করেছো। এখন তাহলে স্মৃতিটা লিখে ফেলো”। ডেভিড লিনডেনের মতে, এই ‘বলে দেয়ার প্রক্রিয়াই’ মস্তিষ্কের নেতিবাচক আবেগ নিয়ন্ত্রক অঞ্চলকে সক্রিয় করার মাধ্যমে স্মৃতি একীভবনের কাজে জোড় দেয়। মোটা দাগে বলা যায় যে বাস্তব উদ্দীপনার অনুপস্থিতিতে স্বপ্নে ভয়/উদ্বেগ/আক্রমণের বর্তনী স্মৃতি গঠন ও অন্যান্য স্মৃতির সাথে সম্পর্ক স্থাপনের জন্য কাজ করে। আপনার স্বপ্ন দেখা মস্তিষ্ক জানে না যে আবেগ সক্রিয়কারী অঞ্চল ছিনতাই হয়ে গেছে গল্প-বলা-স্বপ্নে নেতিবাচক আবেগ সরবরাহ করার জন্য।
এখন প্রশ্ন হলো, কেন স্বপ্নের বিভিন্ন উপাদান আমাদের কাছে এতো অর্থপূর্ণ মনে হয় তার কোন ব্যাখ্যা এই মডেলগুলো দেয় কি না। কিছু কিছু মডেল স্বপ্ন দেখার প্রক্রিয়ার সাথে স্বপ্নের বিষয়বস্তুর সম্পর্ক নিয়েও আগ্রহী। স্বপ্নের স্মৃতি একীভবন/সংযুক্তকরণ মডেলের কিছু উৎসাহী গবেষক এমনটাও দাবী করেছেন যে স্বপ্নে কি দেখছি আর স্মৃতিতে কি লেখা হচ্ছে তা থেকে স্বপ্ন-দেখা-ব্যক্তির মানসিক অবস্থা বিশ্লেষণে কিছুটা গুরুত্বের দাবী রাখে। প্রশ্ন হলো আমরা এই আলোচনাটাকে কত দূরে নিয়ে যেতে চাই। যদিও ফ্রয়েডীয় মনঃসমীক্ষণ ও ব্যক্তির নিজস্ব আগ্রহের জায়গা থেকে স্বপ্নের বিষয়বস্তুর সত্যিকারের ব্যাখ্যা বা তাৎপর্য কি তা নিয়ে বিশ্লেষণের একটা স্থান রয়েছে। কিন্তু ডেভিড লিনডেনের কোন আস্থা নেই যে কারো স্বপ্নের বিষয়বস্তু থেকে কোন রূপক-অভিধান ঘেঁটে তার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে কোন ভালো সিদ্ধান্ত টানা যাবে। তাছাড়া এর পেছনে তেমন কোন জীববৈজ্ঞানিক ভিত্তিও পাওয়া যাচ্ছে না।
স্বপ্ন দেখা অভিজ্ঞতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টা কাহিনীর খুঁটিনাটি কিছু নয়। স্বপ্নে জুতা না দেখে সিগারেট কিংবা মাকে না দেখে বাবাকে দেখাটা মোটেই গুরুত্বপূর্ণ  না। স্বপ্ন আমাদের জাগ্রত অবস্থার বাইরে এমন একটা অভিজ্ঞতা দেয় যেখানে বাস্তব জগতের নিয়মকানুন খাটে না, সেখানে কার্যকারণ ও যৌক্তিক চিন্তা এবং আমাদের বৌদ্ধিক প্রতিতী আকার্যকর হয়ে যায়। স্থান-কাল-পাত্র বদলে যায়, অভিকর্ষ সহ অন্যান্য নিয়মকানুন বেয়াড়া আচরণ করে, অদ্ভূতুড়ে আর অযৌক্তিক কাহিনীরা পর পর ভিড় করে। স্বপ্নে এই কাহিনীদের বেয়াড়া ভিড়কে আমরা স্বাভাবিক বলে ধরে নেই। গল্প-বলা স্বপ্নগুলো মূলত চেনাজানা দুনিয়া থেকে বাইরে কাল্পনিক সব ঘটনা-কাঠামো ও তাদের ব্যাখা হাজির করে। জেগে ওঠার পর আপনি হয়তো স্বপ্ন জগতের বদলানো-রূপ গ্রহণ করতে পারেন কিংবা যুক্তির দিয়ে বিশ্লেষণ করতে পারেন অথবা দুইটি জিনিসই মিশিয়ে ফেলতে পারেন। স্বপ্নের কাল্পনিক জগতের অভিজ্ঞতা পর্দার ওপরে চলে গেছে। সে অভিজ্ঞতাই মূখ্য, আনন্দের। আপাতত, স্বপ্ন ব্যাখ্যায় নিপুণতর কোন তত্ত্বের অপেক্ষায় থাকি।
সূত্র: ডেভিড লিনডেনের দ্যি এক্সিডেন্টাল মাইন্ড।

বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব কী – শুধুই কি কিছু ধারনা, কিছু চিন্তাপ্রসূত অনুমান নাকি বিজ্ঞান, ভবিষ্যৎ প্রমানিত বিজ্ঞান ও বৈজ্ঞানিক সূত্রের শিশুকাল

Scientific Theory” – “বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব” আধুনিক বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার অন্যতম উপাদান। আজকের দিনে যত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, যত প্রমানিত সায়েন্টিফিক ফ্যাক্ট আছে তার জন্ম দেখা যায় খুব সাধারন কিছু তত্ত্ব থেকে। একটি বৈজ্ঞানিক সূত্র, ফ্যাক্ট যতটা গুরুত্বপূর্ন ঠিক ততটাই গুরুত্বপূর্ন একটা তত্ত্ব। বর্তমানে আধুনিক বিজ্ঞানের বৃহৎ আবিষ্কার সমূহের শিশুকালে এগুলোও ছিল এক একটি সাদামাটা তত্ত্ব। উদাহরন হিসাবে দেখা যাক নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্ব।
“দুটি বস্তু একে অপরকে সর্বদা আকর্ষন করে” এমন খুব সাধারন একটা তত্ত্বের ফলাফল হিসাবে মানুষ আজ পৃথিবী ছেড়ে অন্য কোন গ্রহে বসবাসের চিন্তা করছে।
একটা ভুল ধারনা প্রচলিত আছে যে “বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব আসলে বিজ্ঞান নয়, এটির কোনো প্রমান নেই, এটি কিছু বৈজ্ঞানিক চিন্তা ভাবনা মাত্র, এর কোনো ভিত্তি নেই”
আসলেই কি তাই? না। এটি একটি সম্পুর্ন ভুল ধারনা।
বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব কী?
সাধারনত প্রাকৃতিক কোন ঘটনার বিজ্ঞান সম্মত বিশ্লেষন করা হয় বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের সাহায্যে।
একটি প্রাকৃতিক ঘটনা কেন ও কিভাবে ঘটছে তার বিজ্ঞান সম্মত কারন খুজতে চান বিজ্ঞানীরা। এই ঘটনা সম্পর্কে বহুদিন ধরে পর্যবেক্ষন, পর্যালোচনা ও গবেষনা করে তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়। তারপর বিভিন্ন তথ্য ও পর্যবেক্ষনের উপর ভিত্তি করে একটি অনুকল্প (hypothesis) দাড় করানো হয় যা ব্যাখ্যা করতে পারবে ঘটনাটিকে।
একটি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব কখনোই কোন বিজ্ঞানীর মনগড়া কথা নয়। বহু তথ্য ও পর্যবেক্ষনের উপর ভিত্তি করেই গঠিত হয় এক একটি তত্ত্ব।
অনুকল্প তৈরী হয়ে যাবার পর রয়েছে তার সত্যায়ন। বহু তথ্যের সমন্বয়ে একটি অনুকল্প তৈরী করা হলেই এটিকে প্রতিষ্ঠিত তত্ত্বের মর্যাদা দেয়া হয় না। একটি তত্ত্বকে বিজ্ঞান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে তাকে প্রাথমিক ভাবে কমপক্ষে তিনটি শর্তের ভিত্তিতে তার যোগ্যতা যাচাই করতে হয়।
১. তত্ত্বের মূল নিয়ম গুলো সরল ও কম পরিমানে আনুষাঙ্গিক বিষয়ের উপর নির্ভরশীল হতে হবে।
২. তত্ত্বের সাহায্যে পর্যবেক্ষনকৃত ঘটনার বিশাল একটি অংশ কে নির্ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে।
৩. তত্ত্বের সাহায্যে বহুবার এই ঘটনার ভবিষ্যৎবানী করা যাবে যা হুবহু মিলে যাবে।
এই তিনটি ধাপ অতিক্রম করার পরই একটি অনুকল্প মর্যাদা পায় একটি পুর্নাঙ্গ তত্ত্বের। আর এই তিনটি ধাপের জন্য অনেক অনেক বার ঘটনাবলি পর্যবেক্ষন করা হয়-ব্যাখ্যা করা হয়, তত্ত্বের সাহায্যে ভবিষ্যৎবাণী করা হয় অনেক ঘটনার এবং ঘটে যাবার পর মেলানো হয় ভবিষ্যৎবানীর সাথে। এরকম বার বার পরীক্ষার পর পরীক্ষা দিয়েই টিকে থাকে এক একটি তত্ত্ব, যে পরীক্ষাগুলো করাই হয়ে থাকে তত্ত্বটিকে ভুল প্রমানিত করার জন্য।
একটি সঠিক ও প্রতিষ্ঠিত তত্ত্ব এরকম হাজারো পর্যবেক্ষন ও ভবিষ্যৎবাণীর সাহায্যে প্রমানীত হয়। একটি ভুল ভবিষ্যৎবাণী, একটি প্রধান বিষয়ের ব্যাখ্যাহীনতা বা ভুলব্যাখ্যা কেড়ে নিতে পারে একটি তত্ত্বের বিজ্ঞান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবার মর্যাদা। আর তার এই ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করে তার স্থান নেয় আরেকটি তত্ত্ব যা হতে পারে একটি প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞান। সুতরাং একটি প্রতিষ্ঠিত তত্ত্ব কে কোনভাবেই প্রমানীত বিজ্ঞানের চেয়ে কোনো অংশে ছোট করে দেখার উপায় নেই। হতেও পারে এই তত্ত্বটিই অদুর ভবিষ্যতে নিউটনের গতি সূত্রের মতই কোন বাস্তব, দৈনন্দিন ব্যাবহার্য বিজ্ঞানের শিশুকাল।
স্টিফেন হকিং তার বিখ্যাত “A Brief History of Time” গ্রন্থে খুব সুন্দরভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন বৈজ্ঞানিক তত্ত্বকে। তার সংজ্ঞাটি ছিল,
“A theory is a good theory if it satisfies two requirements. It must accurately describe a large class of observations on the basis of a model that contains only a few arbitrary elements, and it must make definite predictions about the results of future observations”
অর্থাৎ –
“একটা তত্তকে ভাল তত্ত্ব বলা যেতে পারে যদি সে তত্ত্ব দুটি প্রয়োজন সিদ্ধ করে। অল্প কিছু যথেচ্ছ ভাবে থাকা নিয়মের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষনের একটা বিরাট অংশকে নির্ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা যাবে এবং ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষন সম্পর্কেও তাকে নিশ্চিত নির্ভুল ভবিষ্যৎবানী করতে হবে।”
এবার দেখে নেয়া যাক কিছু বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের উদাহরন।
প্রথমেই দেখুন কিছু পরিত্যাক্ত তত্ত্ব। এই তত্ত্বগুলো একসময় বিজ্ঞানের জগতে নিয়ে এসেছিল নতুন আলো। বিজ্ঞানের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল এরা। এরপর বিজ্ঞানের ধারাবাহিকতায় এগুলোর ত্রুটি-বিচ্যূতি সংশোধন করে এদের স্থান দখল করে নিয়েছে নতুন সংশোধিত তত্ত্ব, আর এদের স্থান হয়েছে পরিত্যাক্ত তত্ত্বের খাতায়।
১. ডাল্টনের পরমানুর গঠন ও ইলেক্ট্রন বিন্যাস তত্ত্ব
২. আলোর তরঙ্গ তত্ত্ব ও ইথার তত্ত্ব
৩. সমতল পৃথিবী তত্ত্ব
৪. পৃথিবী কেন্দ্রিক মহাবিশ্ব তত্ত্ব
৫. সৌরকেন্দ্রিক মহাবিশ্ব তত্ত্ব (শুধু সৌরজগতের গ্রহ সমূহ নয়, সকল গ্রহ-নক্ষত্র তথা সমগ্র মহাবিশ্ব সূর্য কে কেন্দ্র করে ঘুর্নায়মান)
৬. টাইকোনিয় মহাবিশ্ব তত্ত্ব
এই তত্ত্বগুলো প্রতিষ্ঠিত হবার পূর্বেই গবেষনা ও পর্যবেক্ষনলদ্ধ ফলাফল দ্বারা এদের ভুল ধরা পরে। ফলে এদের সংশোধিত তত্ত্ব আসার পর আর এদেরকে বিজ্ঞানের অংশ হিসাবে দেখা হয় না, কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এদের শেখানো হয় না। “এরকম একটা তত্ত্ব থেকে শুরু” শুধু এইটুকুই বলা হয়। কখনো তাও নয়।
এখন দেখুন কিছু প্রতিষ্ঠিত বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব। এই তত্ত্বগুলো বেশ কিছুকাল আগে থেকে শুরু করে সমসাময়িক তত্ত্ব সমূহ। এই তত্ত্বগুলো আমরা কম বেশি জানি, এই তত্ত্বগুলো বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিজ্ঞান শিক্ষায় শেখানো হয়। এগুলো এখন পর্যন্ত প্রমানীত ও প্রতিষ্ঠিত তত্ত্বের মর্যাদা পেয়ে টিকে আছে।
১. নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্ব (যা এখন মহাকর্ষ সূত্র নামেই পরিচিত)
২. আলোর ডুয়েল নেচার থিউরী (আলো এবং কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অতি ক্ষুদ্র কনাদের একই সাথে কনা ও তরঙ্গের মত আচরন)
৩. রাদারফোর্ডের পরমানুবাদ তত্ত্ব
৪. বিগ ব্যাং তত্ত্ব
৫. আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব
৬. ডারউইনের বিবর্তনবাদ ও প্রাকৃতিক নির্বাচন তত্ত্ব
এই তত্ত্বগুলো তার সত্যতা ও নির্ভুলতা প্রমান করে এসেছে ও আসছে বিভিন্ন পরীক্ষা-নীরিক্ষা, গবেষনা ও ভবিষ্যৎ বানীর যথাযথ সঠিকতা দিয়ে। এখন পর্যন্ত একটি যথাযথ প্রমান পাওয়া যায় নি যা এদের বিপরীতে যায় বা যা এদেরকে ভুল প্রমানীত করে। বর্তমান বিজ্ঞানে কোন প্রমানীত সায়েন্টিফিক ফ্যাক্টের চেয়ে এদের অবস্থান নিচে নয়।
এবার পরিচিত হন কিছু একবারেই নতুন ও শিশু তত্ত্বের সাথে যারা এখনো তাদের প্রাথমিক অবস্থা অর্থাৎ পর্যবেক্ষন ও গবেষনালদ্ধ ফলাফলের উপর ভিত্তি করে একটি প্রাথমিক তত্ত্ব প্রকাশ করার কার্যক্রমের পর্যায়ে আছে।
১. স্ট্রিং তত্ত্ব ( x,y,z,t ছাড়াও আরও ছয়টি অর্থাৎ মোট দশটি পৃথক মাত্রার মহাবিশ্ব, যার বিভাজন অযোগ্য অংশ কোনো কনা নয়, অতি সরু ও লম্বা দশ মাত্রায় কম্পমান সুতার ন্যায় স্ট্রিং)
২. টাইম ট্রাভেলিং, ওয়ার্ম হোল ও নেগেটিভ এনার্জি (আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্ব থেকে জন্ম নেয়া তিনটি উপ-তত্ত্ব)
৩. মাল্টিভার্স তত্ত্ব (অসংখ্য মহাবিশ্ব তত্ত্ব)
৫. বিগ বাউন্স তত্ত্ব (বিগ ব্যাং তত্ত্বের খানিকটা বর্ধিত রূপ, এ তত্ত্বে বিগ ব্যাং একবার ঘটে নি, ঘটেছে অসংখ্য বার এবং ঘটবেও অসংখ্য বার। প্রতিটি মহাধ্বস অর্থাৎ বিগ ক্রাঞ্চ সংঘটিত হবার সময় একত্রিত বিপুল শক্তি থেকে ঘটে আরেকটি বিগ ব্যাং )
এগুলো তুলনামুলক ভাবে একেবারেই নতুন এবং প্রাথমিক পর্যায়ের তত্ত্ব। এগুলোর কোনটি সঠিক বা কোনোটি আদৌ প্রমানিত বিজ্ঞানের মর্যাদা পেয়ে প্রতিষ্ঠিত তত্ত্ব হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবে কিনা তা এখনই আন্দাজ করে বলা যাবে না। আবার এমনো হতে পারে বর্তমানের কোন তত্ত্বের পরিপূরক ও সংশোধন হিসাবে আবির্ভূত হতে পারে এদের যেকোন তত্ত্ব।
সূত্রঃ -
স্টিফেন হকিং এর “A Brief History of Time”
Wikipidia
Youtube (HD universe channel, Through the wormhole series)
সবাইকে ধন্যবাদ।

একেক অঞ্চলের মানুষ কেন একেক রকম হয়?

BNCC এর নাম শুনেছেন? Bangladesh national cadet core না। বরিশাল নোয়াখালি চাঁদপুর কুমিল্লা চিটাগাং ইত্যাদি ইত্যাদি। শুধু এই BNCC না, এমন কথা অবশ্যই শুনেছেন, অমুক এলাকার মানুষজন সহজসরল, ওই অঞ্চলের মানুষজন পরিশ্রমী এমন অনেক কিছু। এখন ঘটনা হচ্ছে এরকম এলাকা ভিত্তিক মানুষজনকে ধরে ধরে ডেঞ্জারাস-সহজসরল কিংবা হাজারটা বৈশিষ্ট্য ধরে ক্রাইটেরিয়ায় কিভাবে ফেলে দিল? তাও শুধুমাত্র এলাকার উপর ভিত্তি করে?
এটার একটা ব্যাখ্যা কেন জানি দিতে ইচ্ছা করল। (প্রায়) বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা(এটাকে হাইপোথিসিস বলাই ভাল)। চেষ্টা করব, এমনভাবে যাতে অবৈজ্ঞানিক মানুষজনও টুকটাক বুঝতে পারে। বিজ্ঞান বিষয়ক লেখালেখির এটাই প্রথম চেষ্টা, ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিলে কৃতজ্ঞ থাকবো।
আমাদের বৈশিষ্ট্যগুলো জন্মসূত্রে আমরা পাই আমাদের পিতামাতার কাছ থেকে। আর এগুলো আমরা পাই ক্রোমোসমের মাধ্যমে। আমাদের প্রত্যকটা কোষের ৪৬ টা ক্রোমোসোমের ২৩ টা আসে পিতার কাছ থেকে এবং বাকি ২৩ টা মাতার কাছ থেকে। এই ক্রোমোসোম তথা ডিএনএ তথা জিন আমাদের সকল বাহ্যিক, আচরণগত, প্রতিভাগত মানে জাগতিক সব বৈশিষ্ট্যই নিয়ন্ত্রণ করে। (এখানে একটা ব্যাপার লক্ষ্য করুন, আপনার ভাইবোনও কিন্তু আপনার বাবা-মার কাছ থেকেই ক্রোমোসোম পাচ্ছেন। আবার আপনার বাবা-চাচা-ফুফু পেয়েছেন তাদের পিতা মাতা অর্থাৎ আপনার দাদাদাদীর কাছ থেকে। এভাবে মা-মামা-খালাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাই আপনার সাথে বাবা কিংবা মা উভয় দিকের আত্মীয়স্বজনের ক্রোমোসোমগত মিল থাকার কথা এবং আছেও)
কিন্তু সন্তানের মধ্যে কি একদম বাবা মায়ের বৈশিষ্ট্যই থাকে শুধু? না সেটা অবশ্যই থাকে না। এখানে একটা ঘটনা ঘটে। ক্রসিং ওভার। ঘটনাটা ঘটে যখন গ্যামেট (শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু) তৈরি হয় তখন। আপনার পিতা এবং মাতার মধ্যে থাকা তাদের পিতামাতার(অর্থাৎ আপনার দাদাদাদী বা নানানানী) কাছ থেকে পাওয়া জোড়ায় জোড়ায় থাকা ক্রোমোসোমগুলি(এরাই হোমোলোগাস) জোড় বেধে নিজেদের মধ্যে অংশ বিনিময় করে। এতে করে জিনে পরিবর্তন ঘটে এবং নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয়।

এবার আলোচনা যাক অনেকটা এর বিপরীত একটা ব্যাপার নিয়ে। লিংকেজ। বুঝাই যাচ্ছে লিংক টাইপ কিছু। আসলে ঘটনা হচ্ছে, একটা ক্রোমসোমে অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য দায়ী জিন থাকে। এই জিনগুলো যত কাছাকাছি থাকে তত এরা হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের সাথে ক্রসিং ওভারের প্রতি নিরাসক্তি দেখায় এবং সবসময় একসাথে থাকার প্রবণতা দেখায়। ফলাফলে নতুন বৈচিত্র্য তৈরি হয় না।

এসব বিবেচনা করলে একটা বিষয় নিশ্চিত যে, বাবা, মা, ভাই, বোন, মামা, চাচা, ফুফু, দাদা, দাদী, মামাতো চাচাতো ফুফাতো ভাইবোন সর্বোপরি তথাকথিত রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় স্বজনের সাথে আপনার জিনগত মিল থাকবেই(DNA Test এর ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটাই ব্যাবহার করা হয়)। তারমানে বাহ্যিক মিলও নিশ্চিত। (তবে এখানেও প্রকট প্রচ্ছন্নের ব্যাপার আছে, সেটা বাদ থাকুক)। এজন্যই আপনি দেখবেন একটি বাচ্চা শিশু জন্ম নিলে সবাই উঠে পড়ে লাগে বাবুর ডান চোখ দাদার মতন নাকি নানার মতন? গায়ের ত্বক বাবারটা পেল নাকি মায়েরটা? নাকটা ফুপুর মতন বোঁচা নাকি খালার মতন সোজা? এই নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে লেগে যেতে। তারপর যখন বড় হয়, তখন বলতে শুনবেন ছেলেটা একেবারে বাবার মতই সহজ-সরল হয়েছে, কারো সাথেপাছে নেই।কিংবা দাদার মত বিজ্ঞ/মায়ের মতই চালাক/মামার মত চঞ্চল/ফুফুর মত ঝগড়াটে ইত্যাদি ইত্যাদি। একটা দূরবর্তী উদাহরণ দেই, আপনার চাচাতো ভাইয়ের ছেলের মেয়ের সাথেও আপনার খুব অল্প হলেও জিনগত মিল থাকবে।
আমাদের দেশে বিয়ের ক্ষেত্র একটু চিন্তা করা যাক। কিছু কিছু অঞ্চল আছে যেখানে অন্য অঞ্চলের কারো সাথে বিয়ে প্রায় হয়ই না। আসলে সত্যি বলতে কি সব অঞ্চলেই এই ব্যাপারটা আছে। কোথাও প্রকট কোথাও প্রচ্ছন্ন। কোথাও কোথাও একেবারে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে (ধরুন মনিপুরীদের ক্ষেত্রে, এরা কিন্তু মনিপুরী ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবে না। আবার চাইনিজ, কোরিয়ান, জাপানিজরাও নিজেদের পিওর ব্রিড ধরে রাখার ব্যাপারে বেশ সজাগ)। কিছুবছর আগেও যখন যোগাযোগ ব্যাবস্থা এতটা উন্নত ছিল না, তখন একটা নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে খুব বেশি বিয়ে হত বলে আমার জানা নাই। এবং এক্ষেত্রে খোঁজ নিয়ে দেখলে দেখা যায় ফ্যামিলি ট্রির রুটের দিকে গেলেই কয়েক পুরুষের মধ্যে এই দুই পরিবারের মধ্যে একটা রক্তের (পড়ুন জিনগত) সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়।
ফলাফল, বৈশিষ্ট্যগুলো খুব একটা পরিবর্তিত হচ্ছে না এবং একই ধরণের বৈশিষ্ট্য বারবার ফিরে আসছে। বৈচিত্র্য আসছে না। আর ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলের আবহাওয়া, পরিবেশ, প্রকৃতি, সম্পদ ওই অঞ্চলের মানুষের বৈশিষ্ট্যগুলোকে নিয়ন্র্রণে ভূমিকা রাখে। হয়ত জিনতাত্ত্বিক ভাবেই…
এখন থেকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে দূরের সম্পর্কের কথা চিন্তা করবেন। যত দূরে যাবেন ততই ভাল। DV (Diversity Visa) লটারির ক্ষেত্রে আসলে এই কাজটাই করা হয়। নিজেদের জিনগুলোকে বৈচিত্র্যময় তথা সমৃদ্ধ করার চেষ্টা…
তবে এটা সত্যি, জিনের কাজ করার ধরণ আমার এই বর্ণনার মত এতটা সহজসরলও না। এই মজার বিষয়গুলোর অনেক কিছুই এখনও রহস্যাবৃত। এসব বিষয়ে এখনও হচ্ছে নিত্যনতুন তত্ত্ব, কৌশল আবিষ্কার।

একেক অঞ্চলের মানুষ কেন একেক রকম হয়?

BNCC এর নাম শুনেছেন? Bangladesh national cadet core না। বরিশাল নোয়াখালি চাঁদপুর কুমিল্লা চিটাগাং ইত্যাদি ইত্যাদি। শুধু এই BNCC না, এমন কথা অবশ্যই শুনেছেন, অমুক এলাকার মানুষজন সহজসরল, ওই অঞ্চলের মানুষজন পরিশ্রমী এমন অনেক কিছু। এখন ঘটনা হচ্ছে এরকম এলাকা ভিত্তিক মানুষজনকে ধরে ধরে ডেঞ্জারাস-সহজসরল কিংবা হাজারটা বৈশিষ্ট্য ধরে ক্রাইটেরিয়ায় কিভাবে ফেলে দিল? তাও শুধুমাত্র এলাকার উপর ভিত্তি করে?
এটার একটা ব্যাখ্যা কেন জানি দিতে ইচ্ছা করল। (প্রায়) বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা(এটাকে হাইপোথিসিস বলাই ভাল)। চেষ্টা করব, এমনভাবে যাতে অবৈজ্ঞানিক মানুষজনও টুকটাক বুঝতে পারে। বিজ্ঞান বিষয়ক লেখালেখির এটাই প্রথম চেষ্টা, ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিলে কৃতজ্ঞ থাকবো।
আমাদের বৈশিষ্ট্যগুলো জন্মসূত্রে আমরা পাই আমাদের পিতামাতার কাছ থেকে। আর এগুলো আমরা পাই ক্রোমোসমের মাধ্যমে। আমাদের প্রত্যকটা কোষের ৪৬ টা ক্রোমোসোমের ২৩ টা আসে পিতার কাছ থেকে এবং বাকি ২৩ টা মাতার কাছ থেকে। এই ক্রোমোসোম তথা ডিএনএ তথা জিন আমাদের সকল বাহ্যিক, আচরণগত, প্রতিভাগত মানে জাগতিক সব বৈশিষ্ট্যই নিয়ন্ত্রণ করে। (এখানে একটা ব্যাপার লক্ষ্য করুন, আপনার ভাইবোনও কিন্তু আপনার বাবা-মার কাছ থেকেই ক্রোমোসোম পাচ্ছেন। আবার আপনার বাবা-চাচা-ফুফু পেয়েছেন তাদের পিতা মাতা অর্থাৎ আপনার দাদাদাদীর কাছ থেকে। এভাবে মা-মামা-খালাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। তাই আপনার সাথে বাবা কিংবা মা উভয় দিকের আত্মীয়স্বজনের ক্রোমোসোমগত মিল থাকার কথা এবং আছেও)
কিন্তু সন্তানের মধ্যে কি একদম বাবা মায়ের বৈশিষ্ট্যই থাকে শুধু? না সেটা অবশ্যই থাকে না। এখানে একটা ঘটনা ঘটে। ক্রসিং ওভার। ঘটনাটা ঘটে যখন গ্যামেট (শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু) তৈরি হয় তখন। আপনার পিতা এবং মাতার মধ্যে থাকা তাদের পিতামাতার(অর্থাৎ আপনার দাদাদাদী বা নানানানী) কাছ থেকে পাওয়া জোড়ায় জোড়ায় থাকা ক্রোমোসোমগুলি(এরাই হোমোলোগাস) জোড় বেধে নিজেদের মধ্যে অংশ বিনিময় করে। এতে করে জিনে পরিবর্তন ঘটে এবং নতুন বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয়।

এবার আলোচনা যাক অনেকটা এর বিপরীত একটা ব্যাপার নিয়ে। লিংকেজ। বুঝাই যাচ্ছে লিংক টাইপ কিছু। আসলে ঘটনা হচ্ছে, একটা ক্রোমসোমে অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য প্রকাশের জন্য দায়ী জিন থাকে। এই জিনগুলো যত কাছাকাছি থাকে তত এরা হোমোলোগাস ক্রোমোসোমের সাথে ক্রসিং ওভারের প্রতি নিরাসক্তি দেখায় এবং সবসময় একসাথে থাকার প্রবণতা দেখায়। ফলাফলে নতুন বৈচিত্র্য তৈরি হয় না।

এসব বিবেচনা করলে একটা বিষয় নিশ্চিত যে, বাবা, মা, ভাই, বোন, মামা, চাচা, ফুফু, দাদা, দাদী, মামাতো চাচাতো ফুফাতো ভাইবোন সর্বোপরি তথাকথিত রক্তের সম্পর্কের আত্মীয় স্বজনের সাথে আপনার জিনগত মিল থাকবেই(DNA Test এর ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটাই ব্যাবহার করা হয়)। তারমানে বাহ্যিক মিলও নিশ্চিত। (তবে এখানেও প্রকট প্রচ্ছন্নের ব্যাপার আছে, সেটা বাদ থাকুক)। এজন্যই আপনি দেখবেন একটি বাচ্চা শিশু জন্ম নিলে সবাই উঠে পড়ে লাগে বাবুর ডান চোখ দাদার মতন নাকি নানার মতন? গায়ের ত্বক বাবারটা পেল নাকি মায়েরটা? নাকটা ফুপুর মতন বোঁচা নাকি খালার মতন সোজা? এই নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে লেগে যেতে। তারপর যখন বড় হয়, তখন বলতে শুনবেন ছেলেটা একেবারে বাবার মতই সহজ-সরল হয়েছে, কারো সাথেপাছে নেই।কিংবা দাদার মত বিজ্ঞ/মায়ের মতই চালাক/মামার মত চঞ্চল/ফুফুর মত ঝগড়াটে ইত্যাদি ইত্যাদি। একটা দূরবর্তী উদাহরণ দেই, আপনার চাচাতো ভাইয়ের ছেলের মেয়ের সাথেও আপনার খুব অল্প হলেও জিনগত মিল থাকবে।
আমাদের দেশে বিয়ের ক্ষেত্র একটু চিন্তা করা যাক। কিছু কিছু অঞ্চল আছে যেখানে অন্য অঞ্চলের কারো সাথে বিয়ে প্রায় হয়ই না। আসলে সত্যি বলতে কি সব অঞ্চলেই এই ব্যাপারটা আছে। কোথাও প্রকট কোথাও প্রচ্ছন্ন। কোথাও কোথাও একেবারে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে (ধরুন মনিপুরীদের ক্ষেত্রে, এরা কিন্তু মনিপুরী ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করবে না। আবার চাইনিজ, কোরিয়ান, জাপানিজরাও নিজেদের পিওর ব্রিড ধরে রাখার ব্যাপারে বেশ সজাগ)। কিছুবছর আগেও যখন যোগাযোগ ব্যাবস্থা এতটা উন্নত ছিল না, তখন একটা নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে খুব বেশি বিয়ে হত বলে আমার জানা নাই। এবং এক্ষেত্রে খোঁজ নিয়ে দেখলে দেখা যায় ফ্যামিলি ট্রির রুটের দিকে গেলেই কয়েক পুরুষের মধ্যে এই দুই পরিবারের মধ্যে একটা রক্তের (পড়ুন জিনগত) সম্পর্ক খুঁজে পাওয়া যায়।
ফলাফল, বৈশিষ্ট্যগুলো খুব একটা পরিবর্তিত হচ্ছে না এবং একই ধরণের বৈশিষ্ট্য বারবার ফিরে আসছে। বৈচিত্র্য আসছে না। আর ওই নির্দিষ্ট অঞ্চলের আবহাওয়া, পরিবেশ, প্রকৃতি, সম্পদ ওই অঞ্চলের মানুষের বৈশিষ্ট্যগুলোকে নিয়ন্র্রণে ভূমিকা রাখে। হয়ত জিনতাত্ত্বিক ভাবেই…
এখন থেকে বিয়ে করার ক্ষেত্রে দূরের সম্পর্কের কথা চিন্তা করবেন। যত দূরে যাবেন ততই ভাল। DV (Diversity Visa) লটারির ক্ষেত্রে আসলে এই কাজটাই করা হয়। নিজেদের জিনগুলোকে বৈচিত্র্যময় তথা সমৃদ্ধ করার চেষ্টা…
তবে এটা সত্যি, জিনের কাজ করার ধরণ আমার এই বর্ণনার মত এতটা সহজসরলও না। এই মজার বিষয়গুলোর অনেক কিছুই এখনও রহস্যাবৃত। এসব বিষয়ে এখনও হচ্ছে নিত্যনতুন তত্ত্ব, কৌশল আবিষ্কার।

স্টিফেন হকিং এর “A BRIEF HISTORY OF TIME” – কি আছে বইটিতে?

মহাকাশ বিজ্ঞান এবং মহাবিশ্ব বিষয়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক গ্রন্থ “A Brief History of Time” বা “কালের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস”। যেটি লিখেছেন আধুনিক পদার্থবিদ্যা এবং সৃষ্টিতত্ত্ব (Physics & Cosmology)সম্পর্কিত বিজ্ঞানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী Stephen W. Hawking
এই বইটি সৃষ্টিতত্ত্ব ও মহাকাশ বিজ্ঞানের অন্যতম একটি বিশাল জ্ঞানের উৎস। বিজ্ঞানের প্রতি আসক্তি থেকে বইটি পড়ার এবং কিছু জ্ঞান অর্জনের চেষ্টা করেছি। যতটুকু বুঝতে পেরেছি তা সংক্ষেপে সহজ ভাষায় লেখার চেষ্টা করেছি।
বিভিন্ন অধ্যায়ে এই বইটিতে যা যা বলা হয়েছে তা তুলে ধরছি।
  • মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের চিত্র (Our Picture of the Universe)
    এই মহাবিশ্ব মুলত দেখতে কেমন। বিজ্ঞানের শুরুর সময় থেকে বিভিন্ন দার্শনিক ও বিজ্ঞানীগন এই মহাবিশ্ব কে কিভাবে দেখেছেন। কি ধারনা করেছেন, কি তত্ত্ব দিয়েছেন, কোনটি সঠিক ছিল আর কোনটি ছিল ভুল। এরপর সময়ের সাথে সাথে আধুনিক বিজ্ঞানীগন এই মহাবিশ্ব সম্পর্কে কি বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব দিয়েছেন এবং আমরা বর্তমানের মহাবিশ্বের যে অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞাত সেটি কিভাবে আবিষ্কৃত হল এই সম্পর্কে বইয়ের এই অংশে বর্ননা করা হয়েছে।
  • স্থান ও কাল (Space and Time)
    আমাদের কাছে এই মহাবিশ্বের একটি গুরুত্বপুর্ন ও বিস্ময়কর মাত্রা হচ্ছে সময়। কিভাবে স্থান ও কালের মাত্রা একত্রে জড়িয়ে আছে, কিভাবে স্থান-কাল এই দুটির সাহায্যে কোন ঘটনার অবস্থান ব্যাক্ষা করা যায়, কিভাবে স্থান ও কাল পরষ্পরকে প্রভাবিত করে এই বিষয়ের উপরে বইয়ের এই অংশ টি।
  • প্রসারমান মহাবিশ্ব (The Expanding Universe)
    বিগব্যাং থেকে এই মহাবিশ্বের শুরু। তারপর থেকেই এই মহাবিশ্ব সদা প্রসারিত হয়ে এসেছে এবং এখনো হচ্ছে। কি কি সমস্যা অতিক্রম করে বিভিন্ন পরীক্ষালদ্ব ফলাফলের দ্বারা এই ব্যাপার টি প্রমান করা হয়েছে তা এখানে বলা হয়েছে।
  • অনিশ্চয়তাবাদ (The Uncertainty Principle)
    অনিশ্চয়তাবাদ কনাবাদী বলবিদ্যার (Quantum mechanics) একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিউটনের গতিবিদ্যা ও বলবিদ্যা শুধু আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ও বৃহৎ বস্তুর ক্ষেত্রে কার্যকরী। যখন আমরা ইলেকট্রন, প্রোটন, ও ফোটনের মত অতি ক্ষুদ্র ও আলোর গতির কাছাকাছি বস্তুর ক্ষেত্রে কাজ করতে যাব তখন নিউটনীয় বলবিদ্যা ধ্বসে পরে। সেখানে দরকার আইনস্টাইনের ব্যাপক আপেক্ষবাদ (Theory of relativity) তত্ত্বের প্রয়োগ। আর এই সকল ক্ষুদ্র কনার বিজ্ঞানের জগৎ হচ্ছে কনাবাদী বলবিদ্যার (Quantum mechanics). এই অতি ক্ষুদ্র কনার জগতে আছে বিশাল এক সমস্যা। যেটিকে বলা হচ্ছে অনিশ্চয়তাবাদ। এই তত্ত্ব অনুযায়ী অতি ক্ষুদ্র কনাদের অবস্থান ও গতি কখনোই একসাথে সঠিক ও নির্ভুল ভাবে পরিমাপ করা সম্ভব নয়। যদি গতি খুব বেশী সুক্ষতায় নির্নয় করা হয় তবে তাদের অবস্থানের ক্ষেত্রে আসবে একটা বৃহৎ পরিসর। আর যদি অবস্থান নির্নয় করা হয় তবে অবস্থানের সুক্ষতা বাড়ার সাথে সাথে কমতে থাকবে গতির নির্ভুলতা।
    কেন দুটি পরিমাপ নির্ভুল ভাবে নিরুপন করা সম্ভব নয় আর কিভাবেই বা তৈরী হচ্ছে এই অনিশ্চয়তা তা এই অধ্যায়ের আলোচ্য অংশ।
  • মৌলকনা ও প্রাকৃতিক বল (Elementary Particles and the Forces of Nature)
    আমরা সাধারন বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যা জানি তা হল ইলেকট্রন, প্রোটন, নিউট্রন হল সর্বশেষ মৌল কনা। হ্যা এটা সত্য। তবে এই আবিষ্কারের পর অনেক বছর পেরিয়েছে, অনেক নতুন তথ্য যোগ হয়েছে মৌলকনার বিজ্ঞানে। এখন আর মৌলকনা এই তিনটিই নয়। এগুলোও আরও ক্ষুদ্র অংশ ও কনা দিয়ে গঠিত। এখন মৌলকনার লিস্টে আছে অনেকগুলো কনা। এমনকি এমন ক্ষুদ্র সব কনা আবিষ্কৃত হয়েছে যার মাত্রা (Dimension) (দৈর্ঘ / প্রস্থ / উচ্চতা) আমাদের দৃশ্যমান আলোর সবচেয়ে ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোর (বেগুনী) তরঙ্গদৈর্ঘের চেয়েও কম। অর্থাৎ ডারউইনের বিবর্তনবাদের ধারায় যদি কোন দিন মানুষের চোখ আরো শক্তিশালী ও সংবেদনশীল না হয় তবে আমরা এসব কনাকে কখনোই চোখে দেখতে পাব না।
    চারটি মুল প্রাকৃতিক বল এই মহাবিশ্বকে নিয়ন্ত্রন করছে। এই বলগুলোর কারনও এই ধরনের অতি ক্ষুদ্র কনা। এই প্রাকৃতিক বলগুলোর কোনটির জন্য কি কনা দায়ী, তাদের স্বরুপ ও বৈশিষ্ট গুলোর নিয়েই এখানে আলোচনা করা হয়েছে।
  • কৃষ্ণগহ্বর (Black Holes)
    এই মহাবিশ্বের সৃষ্টি জগতের সবচেয়ে অধরা অংশটি হল কৃষ্ণগহ্বর। আইনস্টাইনের তত্ত্ব অনুযায়ী যদি আলোর চেয়ে বেশী গতি সম্পন্ন কোন কনা বা তরঙ্গ না থাকে তবে কৃষ্ণগহ্বর কে আমরা কখনোই দেখতে পাব না। না দেখা গেলেও বিভিন্ন পরোক্ষ পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা বের করেছেন কিভাবে একটি বৃহৎ আকারের তারকা বা নক্ষত্র জীবনের অন্তিম মুহুর্তে জ্বালানী সংকটে পরে কৃষ্ণগহ্বর এর সৃষ্টি করে। এই কৃষ্ণগহ্বর ই একমাত্র স্থান যেখানে পদার্থবিদ্যার সকল সূত্র ভেঙ্গে পড়ে, যাকে বলা হয় অনন্যতা বা সিঙ্গুলারিটি (singularity). এর ভেতর থেকে কোন তথ্যই বেড়িয়ে আসতে না পাড়লেও মানব মস্তিস্ক ও বিজ্ঞান কিভাবে এর অস্তিত্ব টের পেয়েছে এবং এর সম্পর্কে এত তথ্য দিচ্ছে তার বিস্তারিত আছে এই অধ্যায়ে।
  • কৃষ্ণগহ্বর অত কালো নয় (Black Holes Ain’t So Black)
    এই কথাটি প্রতীকী অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। কৃষ্ণগহ্বর যত অধরাই হোক না কেন মানব মস্তিস্ক তার কিছু তথ্য ঠিকই বের করে আনতে পেরেছে। আলোক রশ্মি যেটি কৃষ্ণগহ্বরের আকর্ষন বলের সীমানার ভেতরে চলে যায় সেটি বেড়িয়ে আসতে না পারলেও যেটি ভেতরে না গিয়ে তার কিনারা ঘেষে বেড়িয়ে যায় তার আচরন কেমন? কৃষ্ণগহ্বর এর ভেতরে যে এত বস্তু ও শক্তি প্রবেশ করছে সেগুলো কি হচ্ছে? সেগুলো কি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে নাকি কৃষ্ণগহ্বরের শক্তি বৃদ্ধি করছে? এসব প্রশ্ন এবং বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত এর উত্তর গুলো এখানে আছে।
  • মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও পরিনতি (The Origin and Fate of the Universe)
    এই বইয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন অধ্যায় এটি। এখানেই বিস্তারিত ব্যাক্ষা করা হয়েছে সেই সৃষ্টির আদি মুহুর্ত অর্থাৎ “বৃহৎ বিস্ফোরন” বা “Big Bang” তত্ত্বটি। কিভাবে অসীম ভর ও তাপমাত্রা সম্পন্ন একটি “প্রায় শুন্য” আয়তন থেকে ( V → 0 ) আজকের এই মহাবিশ্বে আমরা আছি, আর কিভাবে এই মহাবিশ্বের সমাপ্তি ঘটবে। মহাবিশ্বের সমাপ্তি কিভাবে ঘটবে তা নিয়ে কয়েকটি প্রস্তাবনা আছে যা নির্ভর করছে মহাবিশ্বের আমাদের না জানা কিছু সাংখিক মানের উপর। এসব মানের উপরই নির্ভর করছে একসময় “মহা সংকোচন” এর মাধ্যমে সব কিছু ধংস্ব হবে নাকি অসীম কাল পর্যন্ত এই মহাবিশ্ব আয়তনে বেড়েই চলবে।
  • সময়েরতীর, ওয়ার্ম হোল এবং সময় পরিভ্রমন (The Arrow of Time, Wormholes and Time Travel)
    আধুনিক পদার্থবিদ্যায় সময়কে দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতার মত আরেকটি মাত্রা (Dimension) হিসাবে ধরা হয়। কিন্তু পার্থক্য এই যে আমরা সময়ের মাত্রায় পরিভ্রমন করতে পারি না। মুলত সময়ের মাত্রা টা কিরুপ? আসলেই কি সময় একমুখী? সময়ের অভিমুখে যাত্রা কি অসম্ভব নাকি পর্যাপ্ত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি আবিষ্কারের পর আমরাও সময়ের অভিমুখে যাত্রা করতে পারব? খুব সহজে আমরা যেই সময়কে দেখছি ও ব্যবহার করছি, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোনে এটির জটিলতা ও এই জটিলতার সমাধান কি হতে পারে তাই এই অধ্যায়ের আলোচ্য বিষয়।
  • পদার্থবিদ্যাকে ঐক্যবদ্ধ করা (The Unification of Physics)
    এই মহাবিশ্বের সম্পর্কে একবারেই একটি সয়ংসম্পুর্ন তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করা বেশ দুরহ ছিল। তাই পদার্থবিদ্যার বিভিন্ন অংশকে ভাগ করে নিয়ে এক একটি চুড়ান্ত তত্ত্ব প্রতিষ্ঠা করে তাদের সমন্বয় ঘটিয়ে একটি একক তত্ত্বের আবিষ্কার এখন পদার্থবিজ্ঞানের মুল লক্ষ্য। পদার্থ বিজ্ঞানের উৎকর্ষের সাথে সাথে বিভিন্ন খাতে বিভিন্ন ভাগে পদার্থ বিজ্ঞান এই মহাবিশ্বের গতি প্রকৃতি ও তার আচরন নির্ধারনকারী তত্ত্ব-সুত্র সমূহ আবিষ্কার হচ্ছে। নিউটনের মহাকর্ষ তত্ত্ব ও সাধারন গতিবিদ্যা (Gravity & General Mechanics) , এর পর এসেছে আইনস্টাইনের আলোর গতির ধ্রুবকত্ত্ব ও চরম গতিতে অর্থাৎ আলোর গতির কাছাকাছিতে ( V → c ) বিশ্ববিখ্যাত আপেক্ষিক তত্ত্ব (General & Special Theory of relativity). এর পর তুলনামুলক ভাবে নতুন তত্ত্ব কনাবাদী বলবিদ্যা (Quantum Mechanics). যাতে অতি ক্ষুদ্র কনা যা পদার্থ ও শক্তির জন্য দায়ী তাদের আচরন ও বৈশিষ্ট ব্যাক্ষা করা হচ্ছে। এই তত্ত্ব গুলোকে একত্রিত করে মহাবিশ্বের রুপরেখা প্রদান কারী একটি তত্ত্ব আবিষ্কার এখন পদার্থবিজ্ঞানীদের অন্যতম মুল লক্ষ্য।
    মহাবিশ্বের মুল চারটি বল – মহাকর্ষীয় বল (Gravitational Force), দূর্বল নিউক্লীয় বল (Weak Nuclear Force), সবল নিউক্লীয় বল (Strong Nuclear Force) এবং তাড়িত চৌম্বক বল (Electro-Magnetic Force) এই চারটি বল এই মহাবিশ্বের সকল কিছুর নিয়ন্ত্রক। এই বল গুলোর কারনেই পদার্থ, শক্তি, এই গ্রহ নক্ষত্র সব কিছু। এই বল গুলো সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা অনেক কিছুই জানতে পেরেছে তবে এদের একেকটি এক এক ক্ষেত্রে কার্যকরী গানিতিক সমীকরনের সাহায্যে প্রকাশ করা হচ্ছে। এই চারটি বলের প্রকৃতি যখন একসাথে একটি তত্ত্বের সাহায্যে ব্যাক্ষা করা যাবে তখন সেই তত্ত্বটি কে বলা হবে “মহান ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব” বা “Grand Unified Theory” (GUT). এই তত্ত্বের সাহায্যে ব্যাখ্যা করা যাবে মহাবিশ্বের সকল অংশের কার্যকারীতা।
    এরকম একটি সংঘবদ্ধ তত্ত্ব তৈরী করার কার্যক্রমের বেশ কিছু অংশ, সে সম্পর্কে কিছু বাধা বিপত্তি ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা আছে সর্বশেষ অধ্যায়ে।